ইন্দোনেশিয়ায় 'সবুজ ব্যয়' এখন সামাজিক মর্যাদার নতুন মাপকাঠি, যা ভোগকে উৎসাহিত করছে

লেখক: Tatyana Hurynovich

ইন্দোনেশিয়ায় এক উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব পণ্য ও পরিষেবা ক্রয়, যা 'সবুজ ব্যয়' নামে পরিচিত, তা এখন আর কেবল নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; বরং এটি সামাজিক মর্যাদার একটি স্পষ্ট নির্দেশক হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা কেবল টেকসই উন্নয়নের প্রতি বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান মনোযোগকেই প্রতিফলিত করে না, বরং অভ্যন্তরীণ ভোগনির্ভর দেশটির ভোক্তা কার্যকলাপকেও নতুন করে চাঙ্গা করছে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান কয়লা রপ্তানিকারক এবং নিকেলের ক্ষেত্রেও শীর্ষস্থানীয় (২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি)। এই বিশাল খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দেশটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অঙ্গীকার করেছে। এই বৈপরীত্যপূর্ণ প্রেক্ষাপটই ভোক্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করছে, যেখানে পরিবেশ সচেতনতাকে সাফল্যের নতুন প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে তাল মেলানোর আকাঙ্ক্ষা এই ধারণাগত পরিবর্তন এনেছে। বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিগুলোতে, যেখানে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ৪.৭% প্রাক্কলন করা হয়েছে, সেখানে এমন প্রবণতা স্বাভাবিক।

পরিবেশবান্ধব পণ্য প্রদর্শনমূলকভাবে ক্রয় করার মাধ্যমে ইন্দোনেশীয় ভোক্তারা সমাজে নিজেদের উচ্চবিত্ত এবং সচেতন অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। এই প্রক্রিয়াটি বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র পূর্ব দিকে সরে আসার সঙ্গে সম্পর্কিত; ম্যাককিনসে-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জিডিপি বৃদ্ধির ৫২% এসেছে এশিয়া থেকে। ফলস্বরূপ, 'সবুজ ব্যয়' কেবল খরচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না, বরং এটিকে সামাজিক পুঁজি এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিতে বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদিও ইন্দোনেশিয়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিসহ কাঁচামাল খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তি, তবুও দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার যথেষ্ট পরিণত হয়েছে। এটি ব্যয়বহুল পরিবেশবান্ধব বিকল্প গ্রহণ ও প্রচার করতে প্রস্তুত। সরকার কর্তৃক জ্বালানি ও চালের মতো মৌলিক পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করার নীতি পরোক্ষভাবে পরিবেশবান্ধব প্রিমিয়াম পণ্যের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করছে। সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি দ্বৈত চিত্র দেখা যায়: একদিকে ঐতিহ্যবাহী শক্তির চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশা রয়েছে, অন্যদিকে বিকল্প শক্তির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এই পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি মর্যাদাকেন্দ্রিক ভোগ প্রবণতা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। যদিও বর্তমানে দেশটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তবুও এই সামাজিক পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই মডেলের দিকে রূপান্তরে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই নতুন সামাজিক মানদণ্ড ইন্দোনেশিয়ার ভোক্তা সংস্কৃতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।