Kudat, Malaysia-এর পশ্চিমে 63 কিমি দূরে 7.1 মাত্রার খুব শক্তিশালী ভূকম্পনটি এখনই রিপোর্ট করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখে, সোমবার ভোরে, মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের উপকূলে একটি ৭.১ মাত্রার গভীর ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) অনুসারে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল কোটা কিনাবালু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল আনুমানিক ৬১৯.৮ কিলোমিটার। মালয়েশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর অবশ্য ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৮ রেকর্ড করেছে।
এই ধরনের গভীরতার ভূমিকম্প সাধারণত ভূপৃষ্ঠে কম ক্ষয়ক্ষতি করে, কারণ কম্পনের শক্তি ভূত্বক ও ম্যান্টলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অনেকটাই শোষিত হয়ে যায়। এই কারণে ইউএস সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার কোনো সতর্কতা জারি করেনি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সাবাহ ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশনস সেন্টারও নিশ্চিত করেছে যে কোনো আঘাত বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, এবং জরুরি দল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল দিচ্ছে।
ভূমিকম্পটির চরম গভীরতা সত্ত্বেও, এর কম্পন সারওয়াক, পেনিনসুলার মালয়েশিয়া এবং এমনকি সিঙ্গাপুরের মতো দূরবর্তী স্থানেও অনুভূত হয়েছিল, যা এর ব্যাপক বিস্তৃতির ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনাটি মালয়েশিয়ায় ১৯২৩ সালের পর রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলির মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ঘটনাটিকে 'ডিপ স্ল্যাব ডিফরমেশন' বা গভীর প্লেট বিকৃতির ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা একটি পৃষ্ঠীয় ফল্ট লাইনের পরিবর্তে নিমজ্জিত প্লেটের মধ্যে ঘটেছে।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা এই অঞ্চলের টেকটোনিক ঝুঁকির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেঙ্গানু (UMT)-এর ড. মুহম্মদ নূর ইসমাইল আব্দুল রহমান ব্যাখ্যা করেছেন যে ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান, ইউরেশীয় এবং ফিলিপাইন প্লেটের সংঘর্ষের ফলে ভূত্বকের মধ্যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে এবং শিলা শক্তির সীমা অতিক্রম করলেই এই ধরনের কম্পন সৃষ্টি হয়। ইউনিভার্সিটি মালয়ার অধ্যাপক ড. রোসমাডি ফাউজি জোর দিয়েছেন যে ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (GIS) প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য বিপদ শনাক্তকরণের দিকে নজর দেওয়া উচিত, যা আরও কার্যকর প্রস্তুতি নিতে সহায়ক হবে।
ঐতিহাসিক তথ্যে দেখা যায়, ১৯২৩ সালের আগস্ট মাসে সাবাহর লাহাড দাতু জেলায় একটি ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল, যা পূর্বে এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে গণ্য হতো। অন্যদিকে, ১৯৩৬ সালের একটি ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে তোক ইন্তান-এ ছাদের টাইলস খসে পড়েছিল এবং জর্জটাউন, কুয়ালালামপুর ও সিতিওয়ানে কিছু ভবন ফাটল ধরেছিল। সাম্প্রতিক এই ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পটি ১১ বছরের মধ্যে মালয়েশিয়া উপকূলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে এবং যেকোনো ভবিষ্যৎ ভূমিকম্পজনিত ঘটনার জন্য সরকারী নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।