ভারমন্টের এক আইনপ্রণেতা রাজ্য বিধানসভায় একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যা তিনি বলেছেন, UFO–র খবরের আলোকে আকাশসীমার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ভার্মন্ট অঙ্গরাজ্যের আইনসভা আকাশসীমার নিরাপত্তা এবং অস্বাভাবিক আকাশযান সংক্রান্ত ঘটনা (UAP) মোকাবিলায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এইচ.৬৫৪ (H.654) নামক এই বিলটি মূলত ভার্মন্ট অঙ্গরাজ্যের আকাশসীমা নিরাপত্তা এবং অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনা সংক্রান্ত একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের লক্ষ্য নিয়ে উত্থাপন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বিলটি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হয় এবং পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য এটি হাউজ কমিটি অন গভর্নমেন্ট অপারেশনস অ্যান্ড মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স-এ প্রেরণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি মূলত আকাশসীমার অসংগতিগুলো চিহ্নিত করার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে যা ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
NewsNation: Vermont-এ একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যাতে পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করা যায় এবং UFO-র খবরগুলোর গবেষণা করা যায়।
বার্লিংটনের স্বতন্ত্র প্রতিনিধি ট্রয় হেড্রিক এই বিলটি উত্থাপন করেছেন যা মূলত জাতীয় পর্যায়ের উদ্বেগের সাথে স্থানীয় বাস্তবতাকে সমন্বয় করার একটি প্রয়াস। এই বিলে ড্রোন ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান হার এবং এমনকি স্থানীয় লোকগাঁথার অংশ লেক মনস্টার 'চ্যাম্প'-এর মতো বিষয়গুলোকেও পরোক্ষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত টাস্ক ফোর্সটি হবে দশ সদস্যের একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ। এর সহ-সভাপতিত্ব করবেন জননিরাপত্তা কমিশনার এবং পরিবহন সচিব। এই পরিষদ এমন সব বস্তু বা ঘটনা নিয়ে গবেষণা করবে যেগুলোর বৈশিষ্ট্য প্রচলিত প্রযুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে জড়তা ছাড়াই তাৎক্ষণিক গতিবৃদ্ধি বা কোনো দৃশ্যমান তাপীয় চিহ্ন ছাড়াই হাইপারসনিক গতি অর্জন করার মতো বিষয়গুলো এই গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
১৪ জানুয়ারি পেশ করা এইচ.৬৫৪ বিলটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই টাস্ক ফোর্স মূলত তথ্য সংগ্রহ এবং নীতি নির্ধারণী পরামর্শ প্রদানের কাজ করবে। এটি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রক বা সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে না। এছাড়া বিলে এটি সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আকাশসীমার ওপর ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA)-এর যে সার্বভৌম এখতিয়ার রয়েছে, তা এই বিলের মাধ্যমে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না। মূলত অ্যাটলাস গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স-এর ম্যাগি লেন্স-এর বিশেষ অনুরোধে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে নিউ জার্সিতে অসংখ্য ইউএপি (UAP) দেখার ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই প্রস্তাব দেন। প্রতিনিধি হেড্রিক আরও উল্লেখ করেছেন যে, ড্রোনের ব্যাপক প্রসারের কারণে সঠিক তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি এবং এটি কেবল কৌতূহল নয় বরং নিরাপত্তার সাথে জড়িত।
বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা এবং গবেষণার মান নিশ্চিত করার জন্য এই বিলটিতে সায়েন্টিফিক কোয়ালিশন ফর ইউএপি স্টাডিজ (SCU)-এর সাথে নিবিড় সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। এই সংস্থাটি এই প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করবে। ভার্মন্টের এই উদ্যোগটি মূলত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস (AARO)-এর আদলে তৈরি করা হয়েছে যা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করবে। টাস্ক ফোর্সে সহ-সভাপতিদের পাশাপাশি ভার্মন্ট ন্যাশনাল গার্ড, ভার্মন্ট ব্যুরো অফ ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন এবং মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি সমস্যাটিকে বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
এই আইনটি কার্যকর হলে ভার্মন্ট হবে এমন একটি অঙ্গরাজ্য যা আধুনিক আকাশসীমার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক এবং স্বচ্ছ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। বিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা নিয়মিতভাবে তাদের গবেষণালব্ধ তথ্য এবং সুপারিশগুলো আইনসভার কাছে জমা দেবেন। এর ফলে আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে থাকা বিভিন্ন রহস্যময় ঘটনা সম্পর্কে একটি যৌক্তিক ও তথ্যনির্ভর সমাধান পাওয়া সম্ভব হবে। এই উদ্যোগটি কেবল ভার্মন্টের জন্য নয়, বরং সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।