চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ তার নতুন বিগ-বাজেট সায়েন্স ফিকশন প্রকল্প ‘ডিসক্লোজার ডে’ (Disclosure Day) নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার এই ছবির প্রথম ঝলক এবং অফিসিয়াল ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন দর্শকরা স্পিলবার্গের কাছ থেকে আবারও বড় মাপের কোনো মৌলিক গল্পের অপেক্ষায় ছিলেন।
এই চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে স্পিলবার্গ আবারও ভিনগ্রহের প্রাণীদের রহস্যময় জগতে ফিরে আসছেন, যা তিনি এর আগে ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অফ দ্য থার্ড কাইন্ড’ (১৯৭৭), ‘ই.টি.’ (১৯৮২) এবং ‘ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস’ (২০০৫)-এর মতো কালজয়ী কাজের মাধ্যমে অন্বেষণ করেছিলেন। ডেভিড কোয়েপের লেখা চিত্রনাট্যটি মূলত স্পিলবার্গের নিজস্ব একটি গল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এর পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স। ২০২৫ সালের মে মাসে ছবিটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়, যার শুটিং হয়েছে নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং আটলান্টার বিভিন্ন লোকেশনে।
সিনেমার মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে এক বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে, যেখানে মানবজাতির কাছ থেকে ভিনগ্রহের সভ্যতার অস্তিত্ব গোপন করার চেষ্টা করা হয়। ২০২৬ সালের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ইউএফও (UFO) বা ইউএপি (UAP) সংক্রান্ত সরকারি স্বচ্ছতা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার সাথে এই গল্পের গভীর মিল রয়েছে। ট্রেলারে দেখা যায় কানসাস সিটির একজন টেলিভিশন উপস্থাপিকা, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন এমিলি ব্লান্ট, লাইভ ব্রডকাস্টের সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং অদ্ভুত সব শব্দ করতে শুরু করেন। তার সহকর্মী হিসেবে জোশ ও’কনর দাবি করেন যে তিনি এই সংকেতগুলো বুঝতে পারছেন, যা সত্য উন্মোচনের পথে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
এমিলি ব্লান্ট এবং জোশ ও’কনর ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেছেন কলিন ফার্থ, যিনি গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাওয়া এক নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও রয়েছেন ইভ হিউসন, কোলম্যান ডমিঙ্গো এবং ওয়ায়াট রাসেল। কোলম্যান ডমিঙ্গো এই চিত্রনাট্যটিকে ‘মানবতা নিয়ে লেখা অন্যতম সুন্দর একটি স্ক্রিপ্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ছবির আবহ সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন জন উইলিয়ামস, যা স্পিলবার্গের সাথে তার ৩০তম যৌথ কাজ। উল্লেখ্য যে, স্পিলবার্গ এবং কোয়েপের আগের কাজগুলো বিশ্বজুড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।
বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি ২০২৬ সালের ১২ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এই তারিখটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি স্পিলবার্গের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘ইন্ডিয়ানা জোনস: রেইডার্স অফ দ্য লস্ট আর্ক’ (১৯৮১) মুক্তির ৪৫তম বার্ষিকীর সাথে মিলে যায়। প্রাথমিকভাবে এটি ২০২৬ সালের ১৫ মে মুক্তির পরিকল্পনা করা হলেও অন্যান্য বড় সিনেমার সাথে প্রতিযোগিতা এড়াতে তারিখটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। স্পিলবার্গ ‘ডিসক্লোজার ডে’-কে একটি মৌলিক সামার ব্লকবাস্টার হিসেবে তুলে ধরতে চান, যা বর্তমানের সিক্যুয়েল বা রিমেক নির্ভর চলচ্চিত্রের বাজারে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ছবির প্রচারণামূলক ভিডিওতে সায়েন্স ফিকশন ঘরানার কিছু ধ্রুপদী দৃশ্য দেখা গেছে, যেমন শস্যক্ষেত্রে রহস্যময় নকশা (ক্রপ সার্কেল), প্রাণীদের অস্বাভাবিক আচরণ এবং গোপন সংস্থার প্রতীক। একটি রোমাঞ্চকর ট্রেনের ধাওয়া করার দৃশ্য শেষে আকাশে ইউএফও-র উপস্থিতি দর্শকদের শিহরিত করে। সিনেমার অফিসিয়াল লোগলাইনে দর্শকদের কাছে একটি অস্তিত্ববাদী প্রশ্ন রাখা হয়েছে: “যদি আপনি জানতে পারতেন যে আমরা একা নই, যদি এটি আপনার সামনে প্রমাণ করা হতো, তবে কি আপনি ভয় পেতেন?”


