Captions:
একটি নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে একটি অজানা উত্সের যানবাহন বহু দশক ধরে Maryland-এ Patuxent River Naval Air Station-এ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্যাটাক্সেন্ট রিভার নেভাল এয়ার স্টেশনে (প্যাক্স রিভার) বহু বছর ধরে একটি রহস্যময় ‘অজানা যান’ বা ‘এক্সোটিক ভেহিকল’ সংরক্ষণের খবর প্রকাশিত হয়। নেভাল এয়ার সিস্টেমস কমান্ড (NAVAIR)-এর সাথে যুক্ত বলে দাবি করা কিছু বেনামী সূত্র জানিয়েছে যে, এই ঘাঁটির সদর দপ্তরে এমন কিছু সামরিক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে যা মানুষের তৈরি নয় এমন প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও ব্যবহারের কাজে নিয়োজিত। উল্লেখ্য যে, NAVAIR মার্কিন নৌবাহিনী এবং মেরিন কর্পসের বিমান ও সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের গবেষণা, উন্নয়ন, পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে।
এই নতুন দাবিগুলো ২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসে শপথ নিয়ে তথ্য প্রদানকারী লুইস এলিজোন্ডোর সাক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এলিজোন্ডো তখন দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভিনগ্রহের উন্নত সরঞ্জাম রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, প্যাক্স রিভারে এই ধরনের প্রযুক্তি গবেষণার জন্য একটি বিশেষ হ্যাঙ্গার তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে লকহিড মার্টিন এবং বিগেলো অ্যারোস্পেসের মতো প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। তবে বেনামী সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, সিআইএ-র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের তৎকালীন পরিচালক এই বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার আটকে দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যানুযায়ী, এই অজানা যানটি সম্ভবত ১৯৫০-এর দশক থেকে সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানী ডক্টর হ্যাল পুথফ ২০২৫ সালের মে মাসে একটি পডকাস্টে দাবি করেন যে, ১৯৫৭ সালের রসওয়েল ঘটনার পর থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ১০টিরও বেশি মহাকাশযান উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত বিগেলো অ্যারোস্পেস কোম্পানিটি ২০২০ সালে কোভিড মহামারীর সময় তাদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং কর্মীদের ছাঁটাই করে, যা এই গবেষণার ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চেসাপিক বে সংলগ্ন এই সামরিক ঘাঁটির চারপাশে ব্যাপক নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, এই নজরদারি মূলত উন্নত ড্রোন বা এমন কোনো উড়ন্ত যানের সাথে সম্পর্কিত যা উদ্ধারকৃত অজানা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত মার্কিন পূর্ব উপকূলে রহস্যময় ড্রোন চলাচলের খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে একটি নামহীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই ড্রোনগুলোর দায়ভার গ্রহণ করে এবং সেগুলোকে তাদের উন্নত আকাশযানের পরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করে।
প্যাক্স রিভার ঘাঁটির অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের মে মাসের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। তখন ঘাঁটির অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থেকে ২৫০০ গ্যালন এএফএফএফ (AFFF) ফেনা সেন্ট মেরি কাউন্টির পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়েছিল, যা ঘাঁটির উন্নত হ্যাঙ্গার এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার অস্তিত্ব প্রমাণ করে। যদিও এলিজোন্ডো এবং পুথফের বক্তব্য এই গোপনীয় কর্মসূচি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে, তবুও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বরাবরই ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব বা এই ধরনের কোনো কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট প্রমাণের কথা অস্বীকার করে আসছে।