গ্রীসের লেসবস দ্বীপে অবস্থিত ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, লেসবস জীবাশ্ম বন, সাম্প্রতিক খননকার্যে প্রায় ২০ মিলিয়ন বছর আগের এক সমৃদ্ধ উপক্রান্তীয় বাস্তুতন্ত্রের ৪,৫০০-এর বেশি নমুনা আবিষ্কারের মাধ্যমে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই অমূল্য আবিষ্কারগুলির মধ্যে রয়েছে পাম, কলা এবং দারুচিনি গাছের মতো বিভিন্ন প্রজাতির জীবাশ্ম, যা তৎকালীন এজিয়ান অঞ্চলের এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। এই নিদর্শনগুলি অতীতের জলবায়ু পরিবর্তন এবং বর্তমান পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যেকার সম্পর্ক বুঝতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লেসবস পেট্রিকৃত বন প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পরিচালক ডঃ নিকোস জোরস (Professor Nikos Zouros) উল্লেখ করেছেন যে, পৃথিবী বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়েছে। প্যালিওপ্রোটেরোজোয়িক যুগের মতো প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক সময়কাল অধ্যয়ন করে মহাদেশীয় স্থিতিশীলতা এবং পর্বতমালা গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মহাদেশীয় সঞ্চালনের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির স্থানান্তর এজিয়ান অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। এই আবিষ্কারগুলি কেবল প্রাচীন বাস্তুতন্ত্রের উপর আলোকপাত করে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি এবং জীবনের স্থিতিস্থাপকতা সম্পর্কেও মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করে।
গবেষণাগুলি আরও দেখায় যে, প্রায় ১৭ থেকে ২০ মিলিয়ন বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লেসবস দ্বীপ লাভা ও ছাইয়ের নিচে চাপা পড়েছিল, যা এই বনভূমিকে জীবাশ্মে রূপান্তরিত করে। এই ঘটনাটি প্রায় ২০ মিলিয়ন বছর আগের একটি উপক্রান্তীয় জলবায়ুর ইঙ্গিত দেয়, যা বর্তমান ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। অধ্যাপক নিকোলাস জোরস, যিনি সিগরির প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের প্রধান, তিনি এই অঞ্চলের বিভিন্ন বনভূমি নিয়ে কয়েক দশক ধরে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, "আমরা যত বেশি আবিষ্কার করছি, ততই অতীতের বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে জানতে পারছি।"
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই জীবাশ্মগুলি প্রায় ২০ মিলিয়ন বছর আগের একটি উষ্ণ, আর্দ্র জলবায়ুর চিত্র তুলে ধরে, যা বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি ভিন্ন ছিল। এই আবিষ্কারগুলি আমাদের গ্রহের অতীতের জলবায়ু এবং পরিবেশের পরিবর্তনশীলতা সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে, যা বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।



