প্ল্যান্টনেট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে উদ্ভিদ শনাক্তকরণের সংখ্যা ১৩০ কোটিতে পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্ভিদের তথ্য ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করছে

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ভিদ শনাক্তকরণের হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত মোবাইল অ্যাপ 'প্ল্যান্টনেট' (PlantNet) ১৩০ কোটিরও বেশি শনাক্তকরণ অনুরোধ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো হিসেবে এর অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই অ্যাপটি উদ্ভিদবিদ এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টার ফল, যেখানে ব্যবহারকারীদের আপলোড করা ছবি থেকে উদ্ভিদের প্রজাতি শনাক্ত করতে 'ডিপ লার্নিং' অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়।

সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই প্ল্যাটফর্মটি প্রায় ৭৭,৭০০টি ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদকে তালিকাভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। পেশাদার সিস্টেমগুলোতে প্ল্যান্টনেটের সফল অন্তর্ভুক্তি প্রমাণিত হয় এর অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (API) ব্যবহারের মাধ্যমে, যা ইতিমধ্যে ১০ কোটি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এই ওয়েব-পরিষেবাটি চাক্ষুষ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় কম্পিউটেশনাল প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব পণ্যে স্বয়ংক্রিয় উদ্ভিদ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে।

এই প্ল্যাটফর্মের সংগৃহীত তথ্য কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহায়তা করে, যেখানে সঠিক প্রজাতি শনাক্তকরণের ওপর ভিত্তি করেই বড় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। বর্তমানে গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ইনফরমেশন ফাসিলিটি (GBIF)-এ অবদানের পাশাপাশি প্ল্যান্টনেটের তথ্য ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে ১,৩০০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও, প্ল্যান্টনেটের তথ্যভাণ্ডারে কিছুটা ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, যেখানে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার উদ্ভিদের তথ্যের প্রাধান্য বেশি। বৈচিত্র্যময় গ্রীষ্মমন্ডলীয় উদ্ভিদ প্রজাতির তালিকা উন্নত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি কোস্টারিকা, ব্রাজিল এবং মালয়েশিয়ার মতো জীববৈচিত্র্যপূর্ণ দেশগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালে কোস্টারিকায় অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা দেশটিতে প্রায় ৩,৮০০টি স্থানীয় প্রজাতি শনাক্ত করতে সাহায্য করেছে।

বিশ্বব্যাপী উদ্ভিদ সংক্রান্ত জ্ঞানকে একত্রিত করার লক্ষ্যে ২০২৪ সালে 'ওয়ার্ল্ড ফ্লোরা অনলাইন' (WFO) কনসোর্টিয়ামে প্ল্যান্টনেটের আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০১২ সালে 'দ্য প্ল্যান্ট লিস্ট' প্রকল্পের উত্তরসূরি হিসেবে চালু হওয়া WFO-এর লক্ষ্য হলো জাতিসংঘের বৈশ্বিক উদ্ভিদ সংরক্ষণ কৌশলের অধীনে বিশ্বের সমস্ত সমসাময়িক উদ্ভিদ ট্যাক্সার একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন সংকলন তৈরি করা। WFO-তে প্ল্যান্টনেটের পর্যবেক্ষণমূলক তথ্যের সংযোজন একটি সমৃদ্ধ বিশ্ব ক্যাটালগ তৈরিতে সাহায্য করছে, যা ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ৫৫টি সংস্থার সহযোগিতায় সম্প্রসারিত হয়েছে।

গবেষকরা শনাক্তকরণের নির্ভুলতা বৃদ্ধিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, যেখানে তারা লক্ষ্য করেছেন যে উদ্ভিদের ফুলের মাধ্যমেই সবচেয়ে সঠিকভাবে প্রজাতি চেনা সম্ভব। বর্তমানে ৮৫,০০০ প্রজাতির আওতা থাকলেও এটি পৃথিবীতে বিদ্যমান আনুমানিক ৪,০০,০০০ প্রজাতির তুলনায় অনেক কম। ব্যবহারকারীদের পাঠানো ফুল, ফল এবং পাতার ছবির ওপর ভিত্তি করেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মডেলটির ক্রমাগত প্রশিক্ষণ এবং মানোন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • 20minutes

  • Pl@ntNet

  • Pl@ntNet

  • Futura-Mobility

  • Research.com

  • ResearchGate

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।