যুক্তরাজ্যের নতুন পশুকল্যাণ কৌশল: গৃহপালিত, খামার ও বন্যপ্রাণীর জন্য সংস্কার

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

যুক্তরাজ্য সরকার সম্প্রতি তাদের বিস্তৃত পশুকল্যাণ কৌশল উন্মোচন করেছে, যা গৃহপালিত প্রাণী, খামারের পশু এবং বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রে প্রজন্মব্যাপী সংস্কারের সূচনা করেছে। এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটি দেশের বিদ্যমান পুরনো আইন এবং দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণগত সমস্যাগুলির মোকাবিলা করার লক্ষ্য রাখে। পরিবেশ সচিব এমা রেনল্ডস এই কৌশল ঘোষণা করেন, যা দেশের প্রাণীদের জীবনযাত্রার মান উন্নীত করার জন্য একটি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই কৌশলটি ২০৩০ সালের মধ্যে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।

পোষা প্রাণীদের কল্যাণের ক্ষেত্রে, এই কৌশলের মূল মনোযোগ নিষ্ঠুর পপি ফার্মিং (puppy farming) প্রথা চিরতরে বন্ধ করার ওপর নিবদ্ধ, যেখানে প্রজননকারী কুকুরদের শোচনীয় পরিবেশে রাখা হয় এবং অতিরিক্ত প্রজনন করানো হয়, যার ফলে কুকুরছানারা প্রায়শই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে। এই সংস্কারের অংশ হিসেবে, কুকুরের জন্য বৈদ্যুতিক শক কলারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিষয়ে পরামর্শ আহ্বান করা হবে। এছাড়াও, বর্তমানে লাইসেন্সবিহীনভাবে কাজ করা উদ্ধার ও পুনর্বাসন সংস্থাগুলির নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।

খামারের প্রাণীদের জন্যেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে, বিশেষত নিবিড় আবদ্ধতা ব্যবস্থা থেকে সরে আসার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই সংস্কারগুলির মধ্যে রয়েছে ডিম পাড়া মুরগির জন্য কলোনি খাঁচা এবং শূকরের প্রজননকালীন খাঁচা (farrowing crates) পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়া। কমপ্যাশন ইন ওয়ার্ল্ড ফার্মিং ইউকে-এর প্রধান অ্যান্থনি ফিল্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপে বার্ষিক সাত মিলিয়নেরও বেশি মুরগি এবং দেড় লক্ষ শূকর উপকৃত হবে। সরকার শূকর বধের ক্ষেত্রে কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহারের কল্যাণগত সমস্যাগুলি সমাধানের দিকেও নজর দেবে এবং খামারের মাছের জন্য মানবিক বধ পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেবে। মাংসের মুরগির ক্ষেত্রে ল্যাংড়া রোগ প্রতিরোধে ধীর-বৃদ্ধির জাত ব্যবহারের প্রচার করা হবে।

বন্যপ্রাণী সুরক্ষার দিকটিও নতুন কৌশলের একটি কেন্দ্রীয় উপাদান। ইংল্যান্ডে নিষ্ঠুর ফাঁদ (snares) নিষিদ্ধ করা হবে, যা প্রাণী ও পোষা প্রাণীদেরও আঘাত করতে পারে। খরগোশকে তাদের প্রজনন মরসুমে রক্ষা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট 'ক্লোজ সিজন' চালু করা হবে। নতুন 'লাইভস্টক ওরিং' (Livestock Worrying) আইন খামারের প্রাণীদের কুকুরের আক্রমণ থেকে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা দেবে, যেখানে আদালতকে সীমাহীন জরিমানার ক্ষমতা দেওয়া হবে, যা কৃষকদের মানসিক ও আর্থিক চাপ লাঘব করবে।

খামারের মাছের ক্ষেত্রে মানবিক বধের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; পারকাশন বা বৈদ্যুতিক শক পদ্ধতির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অচেতনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার বা বরফের ওপর শ্বাসরোধের মতো পদ্ধতিগুলিকে বাতিল করবে। এই কৌশলটি বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কৃষকদের নতুন আবাসন এবং ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেবে।

29 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • gov.uk

  • DEFRA: Government announces biggest animal welfare reforms in a generation

  • Government announces 'biggest animal welfare reforms in a generation' | Farm News

  • RSPCA backs new animal welfare strategy but says more action needed

  • Animal Welfare Strategy - Hansard - UK Parliament

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।