বিড়াল ও মানুষের বন্ধন দৃঢ় করার বৈজ্ঞানিক কৌশল: ধীর পলকের কার্যকারিতা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে 'ধীর পলক' বা স্লো ব্লিঙ্ক নামক একটি সাধারণ অঙ্গভঙ্গি মানুষ এবং গৃহপালিত বিড়ালের মধ্যেকার সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে। এই বিশেষ আচরণটি বিড়ালের সন্তুষ্টির অভিব্যক্তির অনুকরণ করে এবং প্রাণীর কাছে মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যকে সংকেত দেয়। ইউনিভার্সিটি অফ সাসেক্সের অধ্যাপক ক্যারেন ম্যাককম্ব এই গবেষণার তত্ত্বাবধান করেন, যা আন্তঃপ্রজাতি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ধীর পলকের কার্যকারিতা পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করে।
সাসেক্স এবং পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে দুটি পরীক্ষা পরিচালনা করেন। প্রথমটিতে মালিকদের এবং দ্বিতীয়টিতে অপরিচিত গবেষকদের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রথম পরীক্ষায় দেখা যায়, মালিকদের দ্বারা ধীর পলক শুরু হলে বিড়ালদের সেই পলক ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, যা মালিকের অনুপস্থিতিতে স্বাভাবিক আচরণের চেয়ে বেশি ছিল। দ্বিতীয় পরীক্ষায়, গবেষকরা যখন বিড়ালের দিকে ধীর পলক ছুঁড়ে দিতেন, তখন বিড়ালগুলি একটি নিরপেক্ষ অভিব্যক্তি প্রদর্শনকারী ব্যক্তির তুলনায় গবেষকের প্রসারিত হাতের দিকে বেশি অগ্রসর হতে আগ্রহী ছিল। এই আচরণগত প্রমাণগুলি নির্দেশ করে যে বিড়ালরা ধীর পলককে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে গ্রহণ করে।
ধীর পলক দেওয়ার সঠিক প্রক্রিয়াটি হলো চোখ সরু করে আনা এবং তারপর ধীরে ধীরে বন্ধ করে আবার খোলা। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে বিড়ালদের ক্ষেত্রে সরাসরি এবং অবিচ্ছিন্নভাবে তাকিয়ে থাকা প্রায়শই হুমকিরূপে বিবেচিত হতে পারে, কারণ তাদের প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিতে বিপদ অনুভব করলে তারা চোখ সরিয়ে নেয়। এই কৌশলটি পশুচিকিৎসা কেন্দ্র এবং আশ্রয়স্থলগুলিতে মিথস্ক্রিয়া উন্নত করতে পারে। পোর্টসমাউথ এবং সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাদের গবেষণাপত্রে, যা নেচার জার্নাল 'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস'-এ প্রকাশিত হয়েছিল, উল্লেখ করেছেন যে ধীর পলক দেওয়া মানুষের প্রতি বিড়ালদের আকর্ষণ বৃদ্ধি করে, যা মানুষের পারস্পরিক হাসির অনুরূপ।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে আশ্রয়স্থলে থাকা বিড়াল যারা মানুষের ধীর পলকের জবাবে চোখ বন্ধ করেছিল, তারা অন্যদের তুলনায় দ্রুত দত্তক নেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও, যে বিড়ালগুলিকে মানুষের প্রতি প্রাথমিকভাবে বেশি স্নায়বিক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে মানুষের ধীর পলকের জবাবে দীর্ঘ সময় ধরে ধীর পলক দেওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে এই আচরণটি ইতিবাচক সংকেত এবং বশ্যতার প্রদর্শনী—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করতে পারে। বিড়ালরা সাধারণত স্বাধীন প্রাণী এবং তাদের আস্থা অর্জন করতে হয়, তাই ধীর পলক তাদের বিশ্বাস, আরাম এবং স্নেহের একটি মূল্যবান সূচক হিসেবে কাজ করে। বৃহত্তর বিড়াল প্রজাতির মধ্যেও এই 'বন্ধুত্বপূর্ণ' আচরণ পরিলক্ষিত হয়, যা এটিকে বিড়াল প্রজাতির মধ্যে একটি সাধারণ সামাজিক আচরণের অংশ করে তোলে।
এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলি বিড়াল মালিকদের তাদের পোষা প্রাণীর সাথে গভীর এবং বিশ্বস্ত সম্পর্ক স্থাপনের জন্য একটি ব্যবহারিক হাতিয়ার সরবরাহ করে। এই কৌশলটি সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে বিড়ালদের সামাজিক জ্ঞানীয় ক্ষমতা এবং মানুষের সাথে তাদের মিথস্ক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হতে পারে।
8 দৃশ্য
উৎসসমূহ
ScienceAlert
ScienceAlert
The Jerusalem Post
ResearchGate
The Optimist Daily
MRCVSonline
Broadcast
BBC Science Focus Magazine
PEOPLE
University of Sussex
Ask A Vet
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
