নিউ সাউথ ওয়েলসের (NSW) উপকূলে সম্প্রতি দৃশ্যমান হওয়া বিরল প্রকৃত অ্যালবিনো হাম্পব্যাক তিমি সিয়ালের গতিবিধি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই ব্যতিক্রমী প্রাণীটি বিশ্বব্যাপী নিশ্চিত হওয়া অ্যালবিনো হাম্পব্যাকগুলির মধ্যে অন্যতম, যা তার বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বৈজ্ঞানিক ও সংরক্ষণ মহলে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সিয়াল প্রথম পরিচিতি লাভ করে ২০২৪ সালের প্রজনন মৌসুমে টোঙ্গার জলসীমায় একটি বাছুর হিসেবে।
তিমি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে, বিশেষত অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে, সাদা তিমির উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে শেষ উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ছিল বিখ্যাত তিমি মিগালো। সিয়ালকে সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১০ই জানুয়ারি, শনিবার, নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্রিসেন্ট হেডের কাছে লিটল নোবি এলাকার কাছাকাছি দেখা গিয়েছিল, যদিও তারপর থেকে তার কোনো নিশ্চিত অবস্থান জানা যায়নি। এই তিমিটির প্রকৃত অ্যালবিনিজম রয়েছে, যার অর্থ হলো তার শরীরে মেলানিনের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি, যা তাকে আংশিক রঞ্জক পদার্থযুক্ত লিউসিস্টিক তিমিদের থেকে আলাদা করে।
হাম্পব্যাক তিমিদের বার্ষিক পরিযান সাধারণত মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত চলে, যেখানে হাজার হাজার তিমি অ্যান্টার্কটিকার শীতল খাদ্যক্ষেত্র থেকে কুইন্সল্যান্ডের উষ্ণ প্রজনন ক্ষেত্রে যাত্রা করে; সিয়ালের এই সময়ে দক্ষিণে প্রত্যাবর্তনের বদলে উত্তরে যাত্রা করা কিছুটা অস্বাভাবিক। এই বিরল প্রাণীর সুরক্ষার জন্য, কর্তৃপক্ষ একটি ৫০০ মিটার নৌযান বর্জন অঞ্চলকে সাধারণ নির্দেশিকা হিসেবে বজায় রেখেছে, যাতে পরিযানের সময় তিমিটি কোনো প্রকার বিঘ্নিত না হয়।
কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সিয়ালের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করেছে এবং যেকোনো ধরনের দর্শন মাত্রই অর্গানাইজেশন ফর দ্য রেসকিউ অ্যান্ড রিসার্চ অফ সেটেসিয়ানস ইন অস্ট্রেলিয়া (ORRCA) অথবা নিউ সাউথ ওয়েলস ন্যাশনাল পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (NPWS)-এর মতো সংস্থাগুলিকে অবিলম্বে রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছে। ORRCA একটি অলাভজনক সংস্থা যা তিমি, ডলফিন, সীল এবং ডুগং-এর উদ্ধার, গবেষণা, সংরক্ষণ এবং কল্যাণে নিয়োজিত।
তিমি পর্যবেক্ষণের সময়, যেমনটি সাধারণত সিডনি উপকূলে জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেখা যায়, দর্শকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়, যেখানে নৌযানের জন্য সাধারণত কোনো মায়ের বাছুরের কাছ থেকে ৩০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। সিয়ালের মতো সাদা তিমির পর্যবেক্ষণ সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে এবং এই ধরনের প্রাণীর উপস্থিতি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সংরক্ষণ প্রচেষ্টার সফলতা ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্বকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করে।




