দীর্ঘায়ু আকাঙ্ক্ষা ও স্বাস্থ্যকাল সম্প্রসারণের বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
বিশ্বনেতাদের মধ্যে সম্প্রতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী দীর্ঘায়ু অর্জনের যে লক্ষ্যমাত্রা উঠে এসেছে, তা বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু—কার্যকর স্বাস্থ্যকাল সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা থেকে কিছুটা ভিন্ন। এই প্রেক্ষাপটে, রাষ্ট্রপ্রধানদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং গবেষণাগারের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে।
২০২৫ সালে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চরম আয়ুষ্কাল নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে পুতিন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে মানুষের 'তরুণ থাকা' বা 'অমরত্ব' লাভের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন এবং শি জিনপিং এই শতাব্দীতে মানুষের আয়ু ১৫০ বছরে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেন। এই ধরনের বক্তব্য কূটনৈতিক আলোচনার সময় উঠে এলেও, বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় ভিন্ন পথে মনোযোগ নিবদ্ধ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি সামরিকবাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছেন।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলি প্রমাণ-ভিত্তিক স্বাস্থ্য পরিমাপ এবং বর্ধিত জীবন প্রত্যাশার সামাজিক প্রভাব ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে। গবেষকরা এখন কেবল দীর্ঘ জীবন নয়, বরং জীবনের গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেখানে জৈবিক বয়স পরীক্ষা করার জন্য এপিজেনেটিক ক্লক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কালানুক্রমিক বয়সের চেয়ে স্বাস্থ্যকালের শক্তিশালী পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। এই গবেষণাগুলি নির্দেশ করে যে, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার বছর বাড়ানোর দিকে নিবদ্ধ, যা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একটি প্রমাণিত বিষয় যা জেনেটিক্স নির্বিশেষে মৃত্যুহার হ্রাস করে এবং জীবনকাল বাড়ায়, যা বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের একটি মূল ভিত্তি।
বিশেষজ্ঞরা দৃঢ়ভাবে বলছেন যে, জৈবিক বয়সের ফলাফলগুলিকে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট জীবনযাত্রার পরিবর্তনে রূপান্তরিত করতে হবে, যাতে দীর্ঘায়ু কেবল একটি সংখ্যা না হয়ে একটি কার্যকরী স্বাস্থ্যকাল হয়। এই ধরনের স্বাস্থ্যগত অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২৫ সালে মহামারী চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা ভবিষ্যতের মহামারী থেকে বিশ্বকে সুরক্ষিত করার জন্য অপরিহার্য।
এই সমস্ত বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত অগ্রগতির সমান্তরালে, দীর্ঘায়ু অর্থনীতি একটি প্রধান আর্থিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়ে গেছে, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা সত্ত্বেও ২০৩০ সালের মধ্যে ২৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে, চীন ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে তার অবস্থান বজায় রাখবে বলে ধারণা করা হয়, যদিও কিছু পূর্বাভাসে ভারতকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার কথা বলা হয়েছে। এই বিশাল অর্থনৈতিক কার্যকলাপের মধ্যে, স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু সংক্রান্ত বিনিয়োগগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ চালক হিসেবে কাজ করছে, যা প্রমাণ করে যে মানব পুঁজির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যদিও বিশ্বনেতারা চরম দীর্ঘায়ুর স্বপ্ন দেখছেন, বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় এবং অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবসম্মত, পরিমাপযোগ্য স্বাস্থ্যকাল বৃদ্ধির ওপর মনোযোগ দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন উপদেষ্টা পিটার নাভারোর মতো ব্যক্তিরা ভারতের বাণিজ্য নীতি এবং রাশিয়ার সাথে তার তেল কেনার সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে। এই ধরনের বৈশ্বিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও, স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি একটি সার্বজনীন লক্ষ্য, যেখানে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে সংযোগকে আরও দৃঢ় করে। সামগ্রিকভাবে, ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে হলে রাজনৈতিক দর্শনকে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে, বিশেষ করে যখন মানব স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রশ্ন আসে।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
thetimes.com
NextShark
The Guardian
The Washington Post
Science Advances
TIME
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
