দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের সমন্বয়: শারীরিক কার্যকলাপ ও পুষ্টির ভূমিকা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
দীর্ঘায়ু এবং নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য বজায় রাখার বিষয়টি মূলত দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে নিয়মিত শারীরিক সঞ্চালন, সুষম খাদ্যগ্রহণ এবং পর্যাপ্ত নিদ্রা দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রধান নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করে। এই জীবনশৈলী গ্রহণ করা কেবল একটি পছন্দ নয়, বরং এটি সক্রিয় ও স্বাবলম্বী বার্ধক্যের ভিত্তি স্থাপন করে, যা আধুনিক জীবনযাত্রার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অপরিহার্য। শারীরিক কার্যকলাপ জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে, যার মূল লক্ষ্য হলো শক্তি, গতিশীলতা, সহনশীলতা এবং ভারসাম্যের উন্নতি ঘটানো, যদিও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে এই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, ত্রিশ বছর বয়সের পর থেকে শরীরের পেশী ভর কমতে শুরু করে, যা পঞ্চাশ বছর বয়সের পরে আরও দ্রুত হয়, ফলে পেশী সংশ্লেষণকে উদ্দীপিত করা জীবনের সকল পর্যায়েই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্রাইহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ব্রেন্ট ফিল্যান্ডের মতে, শুধুমাত্র কাজের জন্য ডেস্কে বসে থাকার কারণে নয়, বরং এই সময়ে শরীরের মাংসপেশী এবং সংযোগকারী টিস্যু সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে, যা শরীরের নমনীয়তা কমিয়ে দেয়। ত্রিশের দশকে, প্রাথমিক পেশী হ্রাস মোকাবিলা করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শক্তি প্রশিক্ষণ এবং গতিশীলতার মাধ্যমে একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এই সময়ে, ন্যাচারোপ্যাথিক সমর্থন হিসেবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ম্যাগনেসিয়াম, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অশ্বগন্ধার মতো অ্যাডাপটোজেনগুলির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে সকালের নাস্তায় প্রোটিন যোগ করলে পেশী প্রোটিন সংশ্লেষণ উৎসাহিত হয়, যা পেশীর ভর বজায় রাখতে সহায়ক।
পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছালে, সারকোপেনিয়া—হরমোনের পরিবর্তনের কারণে দ্রুত পেশী হ্রাস—প্রতিরোধের জন্য প্রতিরোধ প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হয় এবং কার্যকরী গতিশীলতা বজায় রাখা আবশ্যক। এই সময়ে হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম অপরিহার্য, এবং মানসিক নিয়ন্ত্রণের জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের গুরুত্ব বজায় থাকে। পঞ্চাশ বছর বয়সের পরে মহিলাদের মধ্যে মেনোপজের কারণে হরমোনের পরিবর্তনের জন্য সারকোপেনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। অ্যাপোলো হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, বিশেষ করে প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ, পেশী ভর বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ষাটোর্ধ্ব বয়সে, প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা এবং পড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করা, যার জন্য দৈনন্দিন কাজ যেমন উঠে দাঁড়ানোর মতো ক্রিয়াকলাপের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে মৃদু ও ঘন ঘন শক্তি অনুশীলন করা প্রয়োজন। এই বয়সে তাইচি এবং নর্ডিক হাঁটার মতো কম-প্রভাবিত কার্যকলাপগুলি পছন্দের তালিকায় আসে, পাশাপাশি জ্ঞানীয় রক্ষণাবেক্ষণের দিকেও মনোযোগ দেওয়া হয়। ৬০ বছরের পরে সুস্থ থাকার জন্য, হাঁটা, সাঁতার কাটা, যোগব্যায়াম এবং তাই চি-এর মতো কম-প্রভাবিত ব্যায়ামগুলি চমৎকার বিকল্প, যা জয়েন্টগুলোতে অত্যধিক চাপ না ফেলেই গতিশীলতা উন্নত করে। ধারাবাহিক, বয়স-উপযোগী শারীরিক কার্যকলাপ, যা নির্দিষ্ট পুষ্টি দ্বারা সমর্থিত, তা প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস এবং একটি স্বাবলম্বী, প্রাণবন্ত জীবন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক মূল চাবিকাঠি। নেচার জার্নালে প্রকাশিত একটি ২০২৫ সালের গবেষণা অনুসারে, খাবারের ঠিক পরে ১০ মিনিট হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
সামগ্রিকভাবে, বয়সজনিত সারকোপেনিয়া, যা গ্রিক শব্দ 'সারকো' (মাংসপেশি) এবং 'পেনিয়া' (ঘাটতি) থেকে এসেছে, তা প্রতিরোধে শুরু থেকেই সচেতন হওয়া এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা প্রয়োজন, যেমনটি ডা. শাহলা খাতুন উল্লেখ করেছেন।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Femme Actuelle
Organisation Mondiale de la Santé (OMS) - Activité physique
National Library of Medicine - Exercise and sarcopenia in the elderly
National Library of Medicine - Stress and the Adrenal Glands
Medicine & Science in Sports & Exercise - Optimal Exercise Strategies for Older Adults (Revue 2024/2025)
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।