মানব সক্ষমতার শিখর: শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ভিন্ন পরিক্রমা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
সাম্প্রতিক দীর্ঘমেয়াদী গবেষণাগুলি মানব জীবনের দীর্ঘায়ু মাইলফলকগুলিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে শারীরিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়টি জ্ঞানীয় পরিপক্কতার শিখরের চেয়ে অনেক আগে অর্জিত হয়। এই বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণগুলি মানব বার্ধক্যের একটি জটিল চিত্র তুলে ধরে, যা কেবল একটি সরলরৈখিক পতন নয়, বরং বিভিন্ন জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমা নির্দেশ করে।
সাধারণ শারীরিক সক্ষমতা, যার মধ্যে পেশী সহনশীলতা অন্তর্ভুক্ত, তা জীবনের প্রারম্ভিক প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় শীর্ষে পৌঁছায় এবং উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রেই আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সের কাছাকাছি থেকে তা হ্রাস পেতে শুরু করে। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, বিস্ফোরক শক্তির শিখর আরও আগে আসে, তবে কার্ডিওভাসকুলার সহনশীলতা সাধারণত মধ্য-ত্রিশের দশক পর্যন্ত বজায় থাকে। এই শারীরিক পরিবর্তনের সমান্তরালে, কোষীয় স্তরে আণবিক বার্ধক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্বরণ বিন্দু লক্ষ করা যায়, যা প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। এই সময়ে, একাধিক অঙ্গতন্ত্র জুড়ে বয়স-সম্পর্কিত রোগগুলির সঙ্গে যুক্ত প্রোটিনগুলির একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়, যা বার্ধক্যের জৈবিক গতিপথকে নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, সামগ্রিক মানসিক কার্যকারিতা, যার মধ্যে প্রজ্ঞা এবং আবেগীয় নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত, তা অনেক পরে, সাধারণত ৫৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে তার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। এই জ্ঞানীয় শ্রেষ্ঠত্বের সময়কালটি শারীরিক পতনের অনেক পরে আসে, যা প্রমাণ করে যে জীবনব্যাপী অভিজ্ঞতা ও মানসিক বিকাশের একটি ভিন্ন গতিপথ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে, কর্তব্যপরায়ণতা বা বিবেচনাবোধ প্রায় ৬৫ বছর বয়সে শীর্ষে পৌঁছায়, এবং আবেগীয় স্থিতিশীলতা আরও অগ্রসর হয়ে প্রায় ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত উন্নতি লাভ করতে থাকে। এই তথ্যগুলি নির্দেশ করে যে প্রজ্ঞা এবং পরিণত বিচারবুদ্ধি জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত বিকশিত হতে পারে, যা শারীরিক শক্তির তারুণ্যের শিখরের বিপরীত চিত্র।
শারীরিক পরিবর্তনের এই সময়ক্রমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, হরমোনের পরিবর্তনগুলিও জীবনের তৃতীয় দশকে সূক্ষ্মভাবে শুরু হয়, এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ বছর বয়সের কাছাকাছি মেনোপজের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা হ্রাস পায়। যদিও শারীরিক শক্তি যৌবনকালে সীমাবদ্ধ, পরিণত বিচারবুদ্ধি এবং মানসিক স্থিতিশীলতা জীবনের পরবর্তী দশকেও বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রবীণদের ক্ষেত্রে, শারীরিক অসুস্থতার জন্য পরিবার যত্ন নিলেও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগের অভাব দেখা যায়, যা একাকীত্ব ও বিষণ্ণতা বাড়িয়ে তোলে।
বিজ্ঞান নিশ্চিত করে যে শারীরিক ক্ষমতা তারুণ্যের সম্পদ হলেও, পরিণত মানসিকতা জীবনের শেষভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই প্রেক্ষাপটে, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা হলো মানুষের 'স্বাস্থ্যকাল' বা 'হেলথস্প্যান' অপটিমাইজ করার এবং জৈবিক অবনতিকে মন্থর করার কার্যকর কৌশল। গবেষণায় দেখা গেছে যে ৬০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত হন এবং অক্ষমতার একটি অংশ মানসিক ও স্নায়বিক কারণে ঘটে। এই পরিসংখ্যানগুলি শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যা দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য। শারীরিক ও মানসিক উভয় সক্ষমতার এই ভিন্ন ভিন্ন শিখর ও স্থিতিকাল সম্পর্কে অবগত থাকা ব্যক্তি এবং সমাজ উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
7 দৃশ্য
উৎসসমূহ
News18 India
Daily Express
Science Alert
TSN.ua
The Independent
Journal of Cachexia, Sarcopenia and Muscle
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।