দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্যের জন্য ঘুমের পূর্বে উষ্ণ স্নানের কার্যকারিতা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
প্রতি রাতে ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা পূর্বে উষ্ণ স্নান বা শাওয়ার গ্রহণ করা দীর্ঘায়ু এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য একটি সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস হিসেবে বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য দ্বারা সমর্থিত। কার্ডিওলজিস্ট ডঃ আওরেলিও রোজাস এই অভ্যাসের ওপর জোর দিয়েছেন, কারণ এটি শরীরকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করে এবং মানবদেহের স্বাভাবিক ছন্দকে সমর্থন করে, যা উন্নত ঘুমের গুণমানের জন্য অপরিহার্য। এই কৌশলের মূল ভিত্তি হলো উষ্ণ জলের সংস্পর্শে আসার পর ত্বকের রক্তনালীগুলির প্রসারণ বা ভ্যাসোডাইলেশন।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই উষ্ণতা সাধারণত ৪০ থেকে ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে থাকা উচিত। এই প্রসারণের ফলে শরীর থেকে তাপ নির্গত হয়, যা শরীরের মূল তাপমাত্রা হ্রাস করার জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এই তাপমাত্রা হ্রাস মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় মেলাটোনিন নামক গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণের জন্য, যা ঘুম-জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। মেলাটোনিন হলো মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত একটি হরমোন যা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে।
সিস্টেমেটিক পর্যালোচনাগুলি নিশ্চিত করেছে যে, এই নির্দিষ্ট সময়ে স্নান করলে ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় সময় অর্থাৎ স্লিপ ল্যাটেন্সি হ্রাস পায়, ঘুমের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যক্তিগতভাবে অনুভূত ঘুমের গুণমান উন্নত হয়। ব্রিটেনের লাফবোরো ইউনিভার্সিটির গবেষকদের একটি পরীক্ষা অনুসারে, গরম জলে স্নানের পর অংশগ্রহণকারীদের ক্লান্তি দূর হয়েছে এবং ঘুম দ্রুত এসেছে। এই উন্নত ঘুম সরাসরি দীর্ঘায়ু লাভের সঙ্গে সম্পর্কিত, যার মধ্যে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার শক্তিশালীকরণ, শরীরে প্রদাহ হ্রাস এবং সম্ভবত কোষীয় বার্ধক্যের গতি মন্থর করা।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য বিছানায় যাওয়ার প্রায় ৯০ মিনিট আগে উষ্ণ স্নানটি সম্পন্ন করা উচিত। লাফবোরো ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিস্টফ অ্যান্ড্রেস উল্লেখ করেছেন যে, গরম জলে স্নান পেশীর শিথিলতার জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং এটি হজম শক্তিও বাড়ায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, নিয়মিত 'হট ওয়াটার বাথ' গ্রহণকারী পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ও মহিলাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং তাদের বিপাকের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
এই অভ্যাসটি কেবল ঘুমের জন্যই উপকারী নয়, এটি বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গরম জলে স্নানের ফলে শরীরের বিপাকের হার বৃদ্ধি পায়, যা অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সহায়ক হতে পারে। উপরন্তু, গরম জল রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও ভূমিকা রাখে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন গরম জলে স্নান হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই সরল দৈনিক রুটিনটি আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে সৃষ্ট স্থূলতা এবং মানসিক চাপের মোকাবিলায় একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষত যখন নিয়মিত শরীরচর্চার সুযোগ সীমিত থাকে। এই পদ্ধতিটি শরীরের প্রদাহরোধী উপাদানগুলিকে সক্রিয় করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, যা সামগ্রিক শারীরিক উন্নতির পথ ধরে দীর্ঘ ও স্বাস্থ্যকর জীবনের দিকে একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
2 দৃশ্য
উৎসসমূহ
El Periódico Mediterráneo
Vanitatis
El Confidencial
PubMed
HOLA
elEconomista.es
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।