পেরুর কংগ্রেস চিরাইবায়া কুকুরকে জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষণা করেছে
সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.
পেরুর কংগ্রেস সম্প্রতি আইন নং ৩২ ৪৪২ পাশ করেছে, যার মাধ্যমে প্রাচীন চিরাইবায়া কুকুরের জাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়া হলো। এই ঘোষণার ফলে, এই বিশেষ প্রজাতির কুকুর পেরুভিয়ান নেকড়ে কুকুরের (Peruvian Inca Orchid) পাশাপাশি দেশের সুরক্ষিত প্রজাতির তালিকায় স্থান পেল। এটি পেরুর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষত, নৃতত্ত্ববিদ সোনিয়া গিলিয়েন কর্তৃক প্রাপ্ত আবিষ্কারগুলি এই মর্যাদার ভিত্তি স্থাপন করেছে। ইলো অঞ্চলের সমাধিস্থলগুলিতে প্রায় ৪২টি কুকুরের মমি করা দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছিল। এই কুকুরগুলিকে মানুষের কঙ্কালের পাশেই সম্মানের সাথে কবর দেওয়া হয়েছিল, যা প্রমাণ করে সেকালে এই প্রাণীগুলির সামাজিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত উঁচুতে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলি মধ্যযুগের শেষভাগের, যা চিরাইবায়া সংস্কৃতির প্রধান গবেষণা কেন্দ্র মালকি সেন্টারে পাওয়া গেছে।
চিরাইবায়া সংস্কৃতি, যা আনুমানিক ৯০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইলো এবং মোকেগুয়া অঞ্চলের শুষ্ক উপত্যকাগুলিতে বিকাশ লাভ করেছিল, সেই সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এই কুকুরগুলি। ধারণা করা হয়, এই কুকুরগুলিকে মূলত ভেড়া চরানোর কাজে ব্যবহার করা হতো। তারা মূলত লামা এবং আলপাকা পালনে সহায়তা করত, যা ছিল এই উপকূলীয় সভ্যতার অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তাদের এই ব্যবহারিক ভূমিকা তাদের সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিরাইবায়া চারণ কুকুরগুলির আকার ছিল মাঝারি ধরনের। তাদের মুখমণ্ডল ছিল লম্বাটে, গায়ের রং ছিল হালকা এবং তাদের শরীরে লম্বা লোম ছিল। এটি পেরুভিয়ান নেকড়ে কুকুরের থেকে ভিন্ন, কারণ নেকড়ে কুকুরকে মূলত শিকারী বা দ্রুতগামী কুকুর হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এই শারীরিক পার্থক্যগুলি তাদের ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা নির্দেশ করে।
আইন নং ৩২ ৪৪২ পাশ হওয়ার মাধ্যমে এই জাতের কুকুরদের গবেষণা, সংরক্ষণ এবং জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে জাতীয় আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে। এই গুরুদায়িত্ব এখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, মোকেগুয়া অঞ্চল এবং ইলো পৌরসভার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এই আইনি পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো এই প্রাচীন বংশধারাকে কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে, বরং এটিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরা। এই উদ্যোগ পেরুর জীববৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার পরিচায়ক।
উৎসসমূহ
20 minutos
Infobae
Diario El Peruano
20Minutos
La República
Instituto Peruano del Deporte
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
