২০২৫ সাল থেকে ভিয়েতনামের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুসংহত আর্থিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এই জাতীয় উদ্যোগটি ভিয়েতনামের তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অংশগ্রহণের জন্য অপরিহার্য জীবন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করার প্রতি দেশটির গভীর অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। এই শিক্ষামূলক কাঠামোটি ভিয়েতনাম এডুকেশন পাবলিশিং হাউস কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি 'আর্থিক শিক্ষা' নামক একটি বারো খণ্ডের সিরিজ আকারে প্রকাশিত হবে।
এই নতুন পাঠ্যক্রমটি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং ভিয়েতনামের নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করে তৈরি করা হয়েছে। এর বিষয়বস্তু প্রাথমিক স্তরে সঞ্চয়ের মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মতো উন্নত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে আর্থিক বিষয়গুলির জন্য আনুমানিক ৩৫টি ক্লাস বরাদ্দ করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করে যে বিষয়বস্তুগুলি শিক্ষার্থীদের জন্য বয়স-উপযোগী এবং বাস্তব জীবনের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হলো যখন ভিয়েতনামের আর্থিক সাক্ষরতার স্তর OECD/INFE-এর ৩০টি অর্থনীতির গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। অতীতে নেওয়া উদ্যোগগুলির স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব স্পষ্ট না হওয়ায়, এই নতুন জাতীয় সংহতি সেই শূন্যস্থান পূরণের একটি সুচিন্তিত প্রচেষ্টা।
প্রকাশনা গৃহের মহাব্যবস্থাপক নগুয়েন তিয়েন থান উল্লেখ করেছেন যে, এই শিক্ষামূলক নির্দেশিকাগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে বিশেষ প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছাড়াই বিভিন্ন শিক্ষক এই উপাদানগুলি শ্রেণীকক্ষে কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। পাঠ্যক্রমটির বিশেষত্ব হলো, লেখকরা এতে লোকসংগীত, প্রবাদ, বাগধারা, ছোট গল্প এবং জাতীয় ঐতিহ্যের উপাদান ব্যবহার করেছেন, যা বিষয়বস্তুকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এই ধরনের শিক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
এই বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি, ভিয়েতনাম সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার লক্ষ্য হলো জাতীয় উন্নয়নের জন্য উচ্চমানের মানবসম্পদ তৈরি করা। আর্থিক দক্ষতার অভাবের কারণে অনেক তরুণ দ্রুত ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিভিন্ন পঞ্জি স্কিম বা অস্পষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ হারিয়ে ফেলছেন, যা এই আর্থিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। এই সামগ্রিক পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে, ভিয়েতনাম তার 'জাতীয় আর্থিক কৌশল ২০২৫ (দৃষ্টিভঙ্গি ২০৩০)' বাস্তবায়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য আর্থিক শিক্ষাকে একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করে।



