২০২৬ মিলান-কোর্টিনা অলিম্পিকে কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক আইস হকি স্বর্ণ জয়
সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush
২০২৬ সালের মিলান এবং কর্টিনা ডি'অ্যাম্পেজো শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের পুরুষদের আইস হকি টুর্নামেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক অবিস্মরণীয় বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে আমেরিকান দলটি কানাডাকে ওভারটাইমে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয়। এই জয়টি মার্কিন আইস হকির ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে, কারণ দীর্ঘ ৪৬ বছর পর তারা অলিম্পিকের মঞ্চে শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেল। এর আগে ১৯৮০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সেই কিংবদন্তি 'মিরাকল অন আইস' ম্যাচে তারা শেষবার স্বর্ণপদক জিতেছিল। ২০১৪ সালের সোচি অলিম্পিকের পর দীর্ঘ ১২ বছরের বিরতি কাটিয়ে ন্যাশনাল হকি লিগের (NHL) তারকা খেলোয়াড়দের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে এই টুর্নামেন্টটি এক বিশেষ মাত্রা লাভ করেছিল।
ফাইনাল ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনা ও নাটকীয়তায় ভরপুর। খেলার মূল সময়ের মাত্র সপ্তম মিনিটে ম্যাট বোল্ডির একটি অসাধারণ একক প্রচেষ্টায় গোল করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন। তবে কানাডিয়ান দলও দমে যায়নি; ৩৯ মিনিটে কেল মাকার ডেভন টোয়েভসের সহায়তায় গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনেন। পুরো ম্যাচজুড়ে আমেরিকান গোলরক্ষক কনর হেলেবাইক এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি কানাডার ৪১টি আক্রমণ প্রতিহত করে দলের জয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় 'থ্রি-অন-থ্রি' ফরম্যাটের রোমাঞ্চকর ওভারটাইমে। সেখানে মাত্র ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের মাথায় জ্যাক হিউজ সেই কাঙ্ক্ষিত 'গোল্ডেন গোল'টি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত করেন। যদিও কানাডা এই ম্যাচে পরাজিত হয়েছে, তবে তাদের দলের তারকা খেলোয়াড় কনর ম্যাকডেভিড পুরো টুর্নামেন্টে তার অসামান্য নৈপুণ্যের জন্য IIHF কর্তৃক টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় বা MVP নির্বাচিত হন। এটি ছিল পুরুষদের অলিম্পিক আইস হকিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় স্বর্ণপদক। অন্যদিকে, নয়বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কানাডাকে এবার রৌপ্য পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ফিনল্যান্ড দাপুটে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে স্লোভাকিয়াকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। এই টুর্নামেন্টে NHL খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের বিষয়টি লিগ কর্তৃপক্ষ, NHLPA এবং IIHF-এর মধ্যে একটি বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে সম্ভব হয়েছিল, যার ফলে লিগের নিয়মিত মৌসুম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। এই জয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি মধুর প্রতিশোধও বটে, কারণ তারা ২০০২ এবং ২০১০ সালের অলিম্পিক ফাইনালে কানাডার কাছে পরাজিত হয়েছিল। মিলানের 'সান্তাজিউলিয়া' স্পোর্টস অ্যারেনায় এই ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়, যার মাঠের আকার নিয়ে শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আন্তর্জাতিক মানের বলে অনুমোদিত হয়েছিল।
এবারের পুরুষদের টুর্নামেন্টে মোট ১২টি দল অংশগ্রহণ করেছিল, যেখানে রাশিয়া ও বেলারুশের অনুপস্থিতিতে বিকল্প দলগুলো সুযোগ পায়। কেল মাকারের মতো বিশ্বসেরা হকি তারকাদের উপস্থিতি টুর্নামেন্টের মানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। পরপর দুটি অলিম্পিক মিস করার পর আন্তর্জাতিক আইস হকির জন্য এই আসরটি ছিল একটি বিশাল মাইলফলক। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিজয় কেবল একটি পদক জয় নয়, বরং বিশ্ব হকির মানচিত্রে তাদের শক্তিশালী অবস্থানের পুনরুত্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
digisport.ro
CBC Sports
The Guardian
NBC Sports
Wikipedia
NHL.com
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
