কুয়েত দ্বীপপুঞ্জ প্রকল্প: 'ভিশন ২০৩৫'-এর অধীনে ঐতিহ্য ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ফাইলাকার উন্নয়ন

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

কুয়েত তার অর্থনীতিকে বহুমুখী করার লক্ষ্যে 'নিউ কুয়েত ভিশন ২০৩৫' কৌশল গ্রহণ করেছে, যার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো উচ্চাভিলাষী 'কুয়েত দ্বীপপুঞ্জ প্রকল্প'। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় বুবিয়ান, ফাইলাকা, ওয়ারবা, মিসকান এবং উহা—এই পাঁচটি উপকূলীয় দ্বীপকে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হবে। ২০ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পে প্রায় ১৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি থেকে প্রতি বছর প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় হবে এবং প্রায় ২,০০,০০০ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বিশাল প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফাইলাকা দ্বীপ, যাকে মূলত একটি ঐতিহ্যবাহী এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশটির টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ফাইলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ৪,০০০ বছরের পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কুয়েতের পরিবেশ পাবলিক অথরিটি (EPA) দ্বীপে পরিবেশগত আইন বাস্তবায়নে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে, যা এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করে।

ফাইলাকার সাংস্কৃতিক ল্যান্ডস্কেপ রক্ষায় ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর কালচার, আর্টস অ্যান্ড লেটারস (NCCAL) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে সাদ এবং সায়েদ পাহাড়ের মতো প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর বিশ্বজনীন গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য তারা কাজ করছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ফান্ডের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে NCCAL দ্বীপটিকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্যোগটি দ্বীপের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

ফাইলাকা দ্বীপের ঐতিহাসিক গভীরতা অপরিসীম; এটি মেসোপটেমীয়, পারস্য, গ্রীক এবং ইসলামি সভ্যতার এক অনন্য মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানে দিলমুন সভ্যতা এবং হেলেনিস্টিক যুগের সেলিউসিড দুর্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। ২০১১ সাল থেকে কুয়েত-ফরাসি যৌথ মিশনের অধীনে পরিচালিত খননকার্যে আল-কুসুর মঠে প্রাথমিক ইসলামি আমল এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। এই দ্বীপটিকে একটি 'জীবন্ত জাদুঘর' এবং 'উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূমধ্যসাগর' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা সুসংগঠিত সাংস্কৃতিক সফরের মাধ্যমে প্রাচীন ইতিহাসকে সরাসরি অনুভব করতে পারবেন।

সামগ্রিক দ্বীপ প্রকল্পটি একটি সমন্বিত মুক্ত অঞ্চল তৈরির মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দক্ষ জনশক্তি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায়। বুবিয়ান দ্বীপের 'সিল্ক সিটি' যখন বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে মনোনিবেশ করছে, তখন ফাইলাকা ৪,০০০ বছরের ইতিহাস রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক অনন্য ভারসাম্যপূর্ণ মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কুয়েতকে একটি আঞ্চলিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করার এই বিশাল বিনিয়োগের সাফল্য নির্ভর করবে ফাইলাকার অনন্য সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার ওপর।

19 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Travel And Tour World

  • Hussain Hk

  • Hotel & Catering

  • TTN

  • PwC

  • ZAWYA

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।