ওমানের মাস্কাটে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা নিবিড় আলোচনার পর, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং হুথি গোষ্ঠী মঙ্গলবার প্রায় তিন হাজার বন্দী মুক্তির একটি বৃহৎ চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এই মানবিক অগ্রগতিকে ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থা-নির্মাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হুথি প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তা আব্দুলকাদির আল-মুরতাদা নিশ্চিত করেছেন যে তারা ১,৭০০ জন বন্দীকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছেন, যার বিনিময়ে সরকার পক্ষ থেকে ১,২০০ জন বন্দী মুক্তি পাবে। এই চুক্তিতে সাতজন সৌদি নাগরিক এবং তেইশজন সুদানী বন্দীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; এদের মধ্যে দুইজন সৌদি নাগরিক বিমান বাহিনীর পাইলট বলে সরকার পক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া, ২০১৫ সাল থেকে হুথিদের হাতে আটক বিশিষ্ট সুন্নি ইসলামপন্থী নেতা মোহাম্মদ কাহতানও এই বিনিময়ে মুক্তি পাচ্ছেন।
জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে 'ইতিবাচক ও অর্থবহ পদক্ষেপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা বন্দী এবং তাদের পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবে সহায়ক হবে। তবে তিনি জোর দিয়েছেন যে চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য পক্ষগুলোর ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা, সমন্বিত আঞ্চলিক সমর্থন এবং ভবিষ্যতের মুক্তির জন্য টেকসই প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবেরও এই চুক্তিকে 'শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক' বলে অভিহিত করেছেন।
ওমান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে; আলোচনা ৯ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত চলেছিল। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এই নতুন মুক্তির প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যেমনটি তারা পূর্বে ২০২০ এবং ২০২৩ সালের বড় আকারের বন্দী বিনিময়ের সময় করেছিল। পূর্বে, ২০১৮ সালের স্টকহোম চুক্তির আলোচনার পর থেকে এটি অন্যতম বৃহৎ বিনিময়।
সংঘাতটি মূলত ২০১৪ সালে শুরু হয়েছিল যখন ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে, যার ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণে সরে যেতে বাধ্য হয় এবং পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করে। যদিও ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগরে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে এই ধরনের মানবিক পদক্ষেপ উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হতে পারে।




