জেনেভায় শান্তি আলোচনার তৃতীয় পর্ব: আঞ্চলিক সংকট ও মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা

সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার তৃতীয় পর্ব পুনরায় শুরু হয়েছে। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি এক অত্যন্ত উত্তেজনাকর প্রাথমিক আলোচনার মাধ্যমে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটে। এই আলোচনাটি মূলত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের (SNBO) সচিব রুস্তম উমেরভ জানিয়েছেন যে, মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা মূলত সম্ভাব্য সমাধানের ব্যবহারিক মেকানিজম এবং বাস্তবায়নের দিকগুলোর ওপর আলোকপাত করেছে। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারির দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার অধিবেশনটিকে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র "অত্যন্ত উত্তেজনাকর" হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের "উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির" দাবির সাথে কিছুটা সাংঘর্ষিক। উভয় পক্ষই বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের নিজ নিজ দেশের নেতৃত্বকে অবহিত করতে এবং কাজ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

এই আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে আঞ্চলিক বা ভূখণ্ডগত বিরোধ। ২০২৬ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আগের দুটি রাউন্ডেও এই সমস্যার কোনো সমাধান মেলেনি। রুশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা ভ্লাদিমির মেদিনস্কির প্রধান দাবি হলো, ডনবাস হিসেবে ঘোষিত অঞ্চলগুলো থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। এর বিপরীতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে রাশিয়ার দখলে নেই এমন কোনো অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তা জাতীয় গণভোটে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হবে।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা প্রকাশ্য কূটনৈতিক চাপ এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র ইউক্রেনকে ছাড় দেওয়ার আহ্বানে জেলেনস্কি একে "অন্যায্য" বলে অভিহিত করেছেন, কারণ মস্কোর প্রতি এমন কোনো কঠোর দাবি জানানো হয়নি। তবে জেলেনস্কি এটিও উল্লেখ করেছেন যে, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের মতো ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ অত্যন্ত সম্মানজনক পরিবেশে সম্পন্ন হচ্ছে। ইউক্রেনীয় নেতার মতে, ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার অব্যাহত বিমান হামলা প্রমাণ করে যে মস্কো আসলে আলোচনার বিষয়ে আন্তরিক নয়।

জেনেভার এই সম্মেলনে মূল পক্ষগুলো ছাড়াও জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। তারা ইউক্রেনীয় ও মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে পৃথক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেন। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ মস্কোর উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে বলেছেন যে, তারা কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি "দীর্ঘমেয়াদী" চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। একই সময়ে মার্কিন দূতেরা জেনেভাতে অবস্থানরত ইরানি কর্মকর্তাদের সাথেও পরোক্ষ আলোচনায় লিপ্ত ছিলেন, যা এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও বহুমুখী করে তুলেছে।

এই শান্তি আলোচনার ফলাফল কেবল পূর্ব ইউরোপের মানচিত্র নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে। জেনেভার এই বৈঠকগুলো থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো টেকসই সমাধান আসে কি না, তা দেখার জন্য বিশ্ববাসী এখন গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। মধ্যস্থতাকারীদের নিরপেক্ষতা এবং বিবদমান পক্ষগুলোর নমনীয়তাই হতে পারে এই সংকটের একমাত্র চাবিকাঠি।

19 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • Reuters

  • Deutsche Welle

  • Deutsche Welle

  • BBC

  • The Guardian

  • The Korea Times

  • Swissinfo.ch

  • Reuters

  • TRT World

  • The Kyiv Independent

  • The Guardian

  • RNZ News

  • Reuters

  • Reuters

  • GAZETEM RUSYA

  • Anadolu Ajansı

  • Haberler

  • Anadolu Ajansı

  • Украинская правда

  • Ведомости

  • РБК-Украина

  • ФОНТАНКА.ру

  • Meduza

  • ZN.ua

  • Office for National Statistics

  • The Guardian

  • Bureau of Labor Statistics

  • MoneyWeek

  • Office for National Statistics

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।