গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এর ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তার অঙ্গীকার
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। নবগঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’ বা শান্তি পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো গাজা উপত্যকার জরুরি মানবিক প্রয়োজন মেটাতে এবং ব্যাপক পুনর্গঠন কাজের জন্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিশাল অংকের তহবিল যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের অবকাঠামো এবং জনজীবন স্বাভাবিক করতে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এই পরিষদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিস-এ আয়োজিত এই সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো কেবল আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (ISF) এবং স্থানীয় পুলিশ ইউনিটে হাজার হাজার সেনা মোতায়েনেরও অঙ্গীকার করেছে। এই পদক্ষেপটি গাজায় দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আনার একটি সমন্বিত প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, হামাসকে অবশ্যই ‘সম্পূর্ণ এবং অবিলম্বে নিরস্ত্রীকরণ’-এর শর্ত মেনে চলতে হবে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো এই বৈঠকে তার অংশগ্রহণের কথা নিশ্চিত করলেও একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার দেশ কেবল মানবিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। এই অবস্থানটি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার সতর্ক কূটনীতির বহিঃপ্রকাশ।
এই পরিষদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে। শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, হাঙ্গেরি এবং বুলগেরিয়াসহ ১৯টি দেশ এতে স্বাক্ষর করেছিল। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা বেড়ে ২৭-এ দাঁড়িয়েছে। মূলত গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় তদারকি, শাসনব্যবস্থা পরিচালনা এবং নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করাই এই কাউন্সিলের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গাজা সংক্রান্ত এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের নির্বাহী দল গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন জ্যারেড কুশনার, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। ট্রাম্প এই পরিষদকে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে জার্মানি এবং ইতালির মতো দেশগুলো এই জোটে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, কারণ তারা মনে করে এটি জাতিসংঘের সমান্তরাল একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে বিভাজন তৈরি করতে পারে।
রাশিয়া এখনো এই পরিষদের ব্যাপারে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেনি, যদিও ভ্লাদিমির পুতিন জব্দকৃত রুশ সম্পদ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার এই তহবিলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিস-এ সদর দপ্তর বিশিষ্ট এই সংস্থাটি মূলত ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মনে করেন, গাজায় এই মডেল সফল হলে তা ইউক্রেনসহ বিশ্বের অন্যান্য জটিল সংকট নিরসনে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক উদাহরণ বা প্রেসেডেন্ট হয়ে থাকবে।
1 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Deutsche Welle
CTV News
TIME
Reuters
Deccan Herald
CNA
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
