চীন-মার্কিন বাণিজ্য সংঘাতের নতুন মাত্রা: ১০০% শুল্ক আরোপ এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে তীব্র অস্থিরতার বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, চীন থেকে আমদানি করা সমস্ত পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা কার্যকর হবে ২০২৫ সালের ১লা নভেম্বর থেকে, অথবা চীনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে তার আগেও হতে পারে। এই কঠোর পদক্ষেপের মূল কারণ হলো চীনের সাম্প্রতিক দুর্লভ খনিজ (Rare Earth Minerals) রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত। এই খনিজগুলি আধুনিক প্রযুক্তির মেরুদণ্ড, যা সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত সরঞ্জাম এবং প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের এই পদক্ষেপকে 'অত্যন্ত আক্রমণাত্মক' বলে অভিহিত করেছেন এবং এটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে 'নৈতিক কলঙ্ক' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লাগে। ১০ই অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে, এসএন্ডপি ৫০০ সূচক ২.৭ শতাংশ হ্রাস পায়, যা এপ্রিল মাসের পর থেকে একদিনে সবচেয়ে বড় পতন। বিনিয়োগকারীরা বিশেষত প্রযুক্তি খাতের শেয়ার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এই শিল্প সরাসরি দুর্লভ খনিজের সরবরাহের উপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, এর আগে এপ্রিল মাসেও চীন একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল, যার পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছিল।

এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক স্তরেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (APEC) সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তাঁর নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হতে পারে। ট্রাম্পের মতে, চীনের বর্তমান অবস্থানে দাঁড়িয়ে সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যদিও চীন এই বৈঠকের বিষয়টি কখনো নিশ্চিত করেনি, তবুও এই সম্ভাবনা দুই বৃহৎ শক্তির মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। চীন বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ দুর্লভ খনিজ প্রক্রিয়াকরণ করে, যা তাদের এক কৌশলগত সুবিধা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা জবাবে শুধু শুল্কই নয়, 'যেকোনো এবং সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার' রপ্তানির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের হুমকি দিয়েছে, যা নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কৌশলটি আসলে আসন্ন APEC সম্মেলনের আগে দর কষাকষিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশল। এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের নিয়ন্ত্রণ, যেখানে অংশীদারদের নজর এখন বেইজিংয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন বাস্তবতার জন্ম দেবে।

উৎসসমূহ

  • New York Post

  • ABC News

  • The Economic Times

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।