২০২৬ সালের মধ্যে কঙ্গো থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করবে দক্ষিণ আফ্রিকা
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআরসি) নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশন (মনুস্কো - MONUSCO) থেকে তাদের সমস্ত সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেবে। ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি এক টেলিফোন আলাপে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই পদক্ষেপটি ডিআরসিতে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা প্রচেষ্টায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ সহযোগিতার সমাপ্তি ঘটাবে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (SANDF)-এর ৭০০-এরও বেশি সদস্য এই মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন, যা দেশটিকে এই মিশনের অন্যতম প্রধান অংশীদার করে তুলেছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি জাতিসংঘের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পর এখন তাদের সামরিক সম্পদ ও জনবল পুনর্গঠন এবং সংহত করা প্রয়োজন। এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে যখন ডিআরসির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে এম২৩ (M23) সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। যদিও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মনুস্কোর ম্যান্ডেট ২০২৬ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে, তবুও উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু এবং ইতুরি-র মতো প্রদেশগুলোতে সহিংসতার মাত্রা বেড়েই চলেছে। গত এক বছরে এই অঞ্চলে ৭,০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অতীতে ডিআরসিতে নিয়োজিত বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং লজিস্টিক সহায়তার ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রেসিডেন্ট রামাফোসা এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১,০০০-এরও বেশি সৈন্যের অবস্থান বাড়ানোর যে অনুমোদন দিয়েছিলেন, তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার করদাতাদের ৪২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হয়েছে। এই বিশাল ব্যয়ভার এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা দক্ষিণ আফ্রিকার কৌশলগত অবস্থানে একটি বড় পরিবর্তন নির্দেশ করে। দীর্ঘমেয়াদী বৈদেশিক মোতায়েনের পরিবর্তে এখন তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এটি স্পষ্ট করেছে যে, তারা আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU), সাদক (SADC) এবং জাতিসংঘের অধীনে অন্যান্য শান্তি রক্ষা উদ্যোগে তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে। এই প্রত্যাহার শুধুমাত্র মনুস্কো মিশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধের ইঙ্গিত দেয় না। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মনুস্কো জাতিসংঘের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী মিশন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের সৈন্য প্রত্যাহার মিশনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। শেষ পর্যন্ত, এই সিদ্ধান্তটি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর পুনর্গঠন এবং তাদের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত অগ্রাধিকারের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
2 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Bloomberg Business
APAnews - African Press Agency
IOL
IOL
AzerNEWS
The Presidency
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।