বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ছাড়ল চীন

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ছাড়ল চীন-1

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব আলোচনায়, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ২০২৩ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর ঘোষণা করেছেন যে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) তার উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা থেকে প্রাপ্ত সুবিধা আর চাইবে না। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনা নিরসনে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনার গতিপথ পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে।

চীন ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। সদস্যপদ লাভের পর থেকে, বিশেষ করে বিশেষ ও ভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা (Special and Differential Treatment - SDT) ব্যবহার করে চীন বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। এই SDT সুবিধাগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল বাণিজ্য চুক্তিগুলি বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘ সময়সীমা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং কিছু নিয়মের ক্ষেত্রে ছাড়। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। তাদের মতে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীনের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি অসম সুবিধা তৈরি করে।

চীনের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) সংস্কারের পথ সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা এই ঘোষণাকে "বহু বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফল" হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং চীনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত একটি সুষম ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি চীনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।

এই পরিবর্তনগুলি কেবল বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের WTO চুক্তিগুলিকেও প্রভাবিত করবে। যদিও চীন নিজেকে এখনও একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিবেচনা করে, তবে এই নতুন অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে দেশটি একটি দায়িত্বশীল প্রধান উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে চাইছে। এই কৌশলগত পদক্ষেপটি কেবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের ভাবমূর্তিই উন্নত করবে না, বরং বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও স্থিতিশীলতা আনতেও সাহায্য করবে। এই পরিবর্তনের ফলে অন্যান্য দেশগুলিও তাদের বাণিজ্য নীতি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে একটি উন্নত ও সমন্বিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখবে।

এই ঘটনাটি বিশ্ব অর্থনীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে, যেখানে সহযোগিতা এবং সম্মিলিত অগ্রগতির উপর জোর দেওয়া হবে।

17 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Reuters

  • InsideTrade.com

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।