২০২৬ সালের ১ এপ্রিল আর্টেমিস ২ চন্দ্রাভিযানের জন্য নাসার দুই দিনের কাউন্টডাউন শুরু

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) তাদের বহুল প্রতীক্ষিত আর্টেমিস ২ মিশনের জন্য দুই দিনের কাউন্টডাউন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণটি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এই প্রথম ওরিয়ন মহাকাশযানটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথ অতিক্রম করে গভীর মহাকাশে মানববাহী যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। এই মিশনটি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

এই কাউন্টডাউন প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ মার্চ, ২০২৬ সোমবার বিকেল ৪:৪৪ মিনিটে (ইডিটি) শুরু হয়েছে। ১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬:২৪ মিনিটে উৎক্ষেপণের উইন্ডো বা সময়সীমা উন্মুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯বি থেকে এই মহাকাশযাত্রা শুরু হবে। উৎক্ষেপণের আগে প্রস্তুতির জন্য মোট সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৯ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। মহাকাশ বাহিনীর ৪৫তম ওয়েদার স্কোয়াড্রনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, উৎক্ষেপণের সময় অনুকূল আবহাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ।

চাঁদকে ঘিরে ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর ভ্রমণে চারজন অভিজ্ঞ নভোচারী অংশগ্রহণ করছেন। এই দলে রয়েছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ (নাসা)। এছাড়াও কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (সিএসএ) থেকে মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছেন জেরেমি হ্যানসেন। মিশন শেষে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিলের দিকে প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটের এটি দ্বিতীয় ফ্লাইট, যার মূল লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের আর্টেমিস ৪ মিশনের আগে গভীর মহাকাশে ওরিয়ন যানের কার্যকারিতা এবং মানব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মিশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তারা হার্ডওয়্যারের প্রস্তুতি নিয়ে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। নাসার লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন জানিয়েছেন যে, মহাকাশযানটি বর্তমানে চমৎকার অবস্থায় রয়েছে। মিশন ম্যানেজমেন্ট টিমের চেয়ারম্যান জন হানিকাট নিশ্চিত করেছেন যে, তরল হাইড্রোজেনের নতুন সিলগুলো এখন সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য, যা আগের পরীক্ষাগুলোতে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর আগে হিলিয়াম সরবরাহ লাইনে কিছু ত্রুটি দেখা দিলেও তা নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত করা হয়েছে এবং ২০ মার্চ যানটিকে পুনরায় লঞ্চ প্যাডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আর্টেমিস ২ মিশনটি পৃথিবী থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড অতিক্রম করে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। ১৯৭২ সালের পর এটিই হবে পৃথিবী কক্ষপথ ত্যাগ করা প্রথম মানববাহী মিশন। এই মিশনের বিশেষত্ব হলো এর বৈচিত্র্যময় ক্রু সদস্য। ভিক্টর গ্লোভার হবেন চাঁদে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চন্দ্র অভিযানে অংশ নেবেন। বর্তমানে প্রকৌশলীরা এসএলএস রকেটে তরল হাইড্রোজেন এবং তরল অক্সিজেন লোড করার মতো চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্রায়োজেনিক সিস্টেম সক্রিয়করণের কাজগুলো সম্পন্ন করছেন।

যদিও দুই ঘণ্টার উৎক্ষেপণ উইন্ডোটি আবহাওয়া বা অন্য কোনো যান্ত্রিক কারণে কিছুটা নমনীয়তা প্রদান করে, তবুও বিজ্ঞানীরা ১ এপ্রিলকেই লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেছেন। সফলভাবে এই মিশন সম্পন্ন হলে তা ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানব অভিযানের পথকেও প্রশস্ত করবে। নাসার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কেবল বৈজ্ঞানিক সাফল্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। পুরো বিশ্ব এখন কেনেডি স্পেস সেন্টারের দিকে তাকিয়ে আছে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে।

9 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • SpaceNews

  • NASA

  • Space.com

  • Wikipedia

  • Royal Museums Greenwich

  • CBS News

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।