খাদ্যরঙের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: ক্ষুধা, খাদ্যাভ্যাস এবং রঙের বিজ্ঞান

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

খাদ্যদ্রব্যের বর্ণ, গঠন এবং আকৃতি মানুষের স্বাদ উপলব্ধি এবং ক্ষুধা নিবৃত্তির ধারণাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে বলে গবেষণায় প্রমাণিত। এই রঙের মনোবিজ্ঞান কেবল নান্দনিকতার জন্য নয়, বরং এটি মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের একটি সূক্ষ্ম কৌশল হিসেবেও কাজ করে। উষ্ণ বর্ণগুলি, যেমন লাল, কমলা এবং হলুদ, স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুধা উদ্দীপিত করে এবং শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত, যার কারণে ফাস্ট ফুড শিল্পে এদের ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। এই রঙগুলি মানুষের মধ্যে খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করে।

বিপরীতে, নীল, সবুজ এবং ধূসর রঙের মতো শীতল বর্ণগুলি প্রাকৃতিক খাদ্যে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। এই রঙগুলি কিছু ক্ষেত্রে ক্ষুধা দমন করতে পারে অথবা মানুষের মনে বিতৃষ্ণা বা বিরূপ অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। রঙের এই মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের কারণে, অনেক খাদ্য প্রস্তুতকারক পণ্যের আবেদন বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করেন, যা পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক রাসায়নিক থেকে তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, কালো রঙের খাবার একটি নাটকীয় দৃশ্য তৈরি করলেও, এর সঙ্গে পচন বা নষ্ট হওয়ার একটি প্রাচীন সংযোগ থাকায় কিছু ভোক্তা এটি গ্রহণে দ্বিধা বোধ করতে পারেন। সাদা রঙকে একটি নিরপেক্ষ ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়, যা অন্যান্য রঙের উপাদানগুলিকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যদিও অতিরিক্ত সাদা রঙের খাবার অনেক সময় স্বাদহীন বা পানসে হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, উইলিয়াম হেনরি পারকিন ১৮৫৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম কৃত্রিম রঙ সংশ্লেষণ করেন, যা খাদ্য রঙিন করার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, যদিও পরবর্তীতে অনেক কৃত্রিম রঙের ক্ষতিকারক প্রভাব প্রমাণিত হওয়ায় সেগুলো নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এবং ইউরোপীয় ফুড সেফটি অথরিটি (EFSA)-এর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি কৃত্রিম খাদ্য রঙের ব্যবহার নিয়মিত পর্যালোচনা করে। যদিও রেড ৪০, ইয়েলো ৫, এবং ইয়েলো ৬-এর মতো কিছু কৃত্রিম রঙ প্রাণবন্ত রঙের জন্য জনপ্রিয়, তবুও কিছু গবেষণায় শিশুদের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি এবং হাইপারঅ্যাক্টিভিটির সংযোগ পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী, খাদ্য পরিবেশনে রঙের কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অংশ নিয়ন্ত্রণের জন্য নীল বা ধূসর রঙের প্লেট ব্যবহার করা যেতে পারে, যা খাওয়ার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। শিশুদের ক্ষুধা উদ্দীপিত করার জন্য হলুদ রঙের ব্যবহার কার্যকর হতে পারে। গভীর রঙের খাদ্য উপাদান, যেমন কালো, মূলত উচ্চ বৈসাদৃশ্য (high contrast) সৃষ্টির জন্য উপযোগী, যা খাবারের অন্যান্য অংশের দৃশ্যমান আকর্ষণকে জোরালো করে। খাদ্য শিল্পে প্রাকৃতিক বিকল্প, যেমন বিটের নির্যাস বা হলুদের কারকুমিন, ব্যবহারের প্রবণতা থাকলেও, কৃত্রিম রঙগুলি তাদের স্থায়িত্ব এবং উজ্জ্বলতার জন্য এখনও ব্যবহৃত হয়। এই রঙের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবগুলি খাদ্য পরিবেশন এবং ভোক্তার আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণাত্মক ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • unian

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।