পুষ্টি ও স্বাস্থ্য: ডিমের খাদ্যতালিকাগত গুরুত্ব এবং রান্নার সঠিক পদ্ধতি

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

ডিম প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের একটি চমৎকার উৎস হিসেবে খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রেখেছে। এটি শরীরের কোষ গঠন ও মেরামতের জন্য অপরিহার্য উচ্চ-মানের সম্পূর্ণ প্রোটিন সরবরাহ করে। এছাড়াও, ডিমে কোলিন, লুটেইন এবং জেক্সানথিনের মতো উপাদান রয়েছে, যা যথাক্রমে মস্তিষ্ক ও চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানগুলি ইঙ্গিত দেয় যে, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না, যা পূর্বে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান খুশমা শাহের মতে, মানুষের যকৃৎ স্বাভাবিকভাবেই কোলেস্টেরল উৎপাদন করে, তাই খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করা কোলেস্টেরল নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই; বরং ভালো (এইচডিএল) এবং খারাপ (এলডিএল) কোলেস্টেরলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। আধুনিক পুষ্টি নির্দেশিকাগুলি ডিমের ব্যবহারকে আরও বেশি সমর্থন করছে, কারণ খাদ্যের কোলেস্টেরলের চেয়ে স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটই রক্তের মাত্রার ওপর প্রধান প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়ার অভ্যাস হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে, যেমনটি চীনের 'জার্নাল অব হার্ট'-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

একটি বড় ডিমে প্রায় ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকলেও, লিভার খাদ্যের সরবরাহ অনুযায়ী তার নিজস্ব উৎপাদন সমন্বয় করে নেয়। অক্সফোর্ড থেকে পিএইচডি এবং হার্ভার্ড থেকে এমডি সম্পন্ন গবেষক নিক নরউইটজ একটি পরীক্ষায় টানা ৩০ দিন প্রতিদিন ২৪টি করে মোট ৭২০টি ডিম খেয়ে দেখিয়েছেন যে, এতে তাঁর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৮ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে, যা প্রচলিত ধারণার বিপরীত।

পুষ্টির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে ডিম রান্নার পদ্ধতি একটি মুখ্য বিষয়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, ডিম যত কম সময়ে এবং কম তাপমাত্রায় রান্না করা যায়, তত বেশি পুষ্টিগুণ সংরক্ষিত থাকে। ডিম সেদ্ধ করা বা পানিতে পোচ করা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি, কারণ এতে অতিরিক্ত তেল বা চর্বি যোগ হয় না এবং পুষ্টি উপাদানগুলি অক্ষুণ্ণ থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ডিম পোচ করার সময় ফুটন্ত গরম পানিতে ভিনেগার ব্যবহার করে তেলবিহীন উপায়ে এটি তৈরি করা যেতে পারে।

রান্নার উদ্ভাবনী দিকগুলিও জনপ্রিয়তা লাভ করছে, যা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত তাপে দীর্ঘক্ষণ রান্না করলে ডিমের কোলেস্টেরল অক্সিডাইজড হয়ে যেতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই, পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন, ডিম ভাজার ক্ষেত্রে নারকেল তেল বা এক্সট্রা ভার্জিন জলপাই তেলের মতো স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করা উচিত এবং স্ক্র্যাম্বলড এগ তৈরির সময় দুধের পরিবর্তে জল ব্যবহার করে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। ডিমের সঙ্গে পালংশাক, বাঁধাকপি বা ব্রকলির মতো ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি যোগ করলে এর পুষ্টিগুণ আরও বৃদ্ধি পায়, যা একটি সুষম আহার নিশ্চিত করে।

11 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The TOC

  • MDPI

  • Hendrix Genetics BV

  • VnExpress International

  • Sci.News

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।