সামুদ্রিক খাদ্যের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে আসছেন রন্ধনশিল্পী জির্ন

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

বিখ্যাত রন্ধনশিল্পী অ্যান্ড্রু জির্ন মনে করেন, আমেরিকার পরবর্তী স্বাস্থ্য বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সামুদ্রিক খাদ্য। তিনি এই খাদ্যকে আমেরিকানদের জন্য একটি নতুন স্বাস্থ্যকর পথের দিশারী হিসেবে তুলে ধরেছেন, যার মূল কারণ হলো এতে অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণ কম এবং উপকারী চর্বির প্রাচুর্য রয়েছে। জির্ন এবং সামুদ্রিক খাদ্য বিশেষজ্ঞ সহ-লেখক বার্টন সিভার তাঁদের নতুন গ্রন্থ 'দ্য ব্লু ফুড কুকবুক'-এর মাধ্যমে এই বার্তাটি প্রচার করছেন।

এই বইটি কেবল রান্নার রেসিপির সংকলন নয়, বরং এটি পরিবেশবান্ধব উপায়ে সামুদ্রিক খাদ্য সংগ্রহ ও প্রস্তুত করার বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করে। বইটিতে ১৪৫টিরও বেশি রন্ধনপ্রণালী স্থান পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সামুদ্রিক প্রোটিনকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তোলার লক্ষ্য রাখে। জির্ন বিশেষত হিমায়িত সামুদ্রিক খাদ্য এবং সঠিক অংশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে স্বাস্থ্যকর খাবার সকলের নাগালের মধ্যে থাকে। এই উদ্যোগটি জির্নের পিবিএস তথ্যচিত্র সিরিজ 'হোপ ইন দ্য ওয়াটার'-এর সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে মানুষ সমুদ্রকে সুরক্ষিত রেখে টেকসই সামুদ্রিক খাদ্য ব্যবস্থা তৈরি করছে। সিভার উল্লেখ করেছেন যে, অন্যান্য প্রাণীজ প্রোটিনের তুলনায় সামুদ্রিক খাদ্য পরিবেশের উপর তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব ফেলে এবং এটি একটি টেকসই বিকল্প।

জির্ন, যিনি একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত রন্ধনশিল্পী এবং সাসটেইনেবল অ্যাকুয়াকালচার কোয়ালিশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, খাদ্যর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে বিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, সচেতনভাবে খাদ্য নির্বাচন কেবল শারীরিক পুষ্টিই নয়, বরং বৃহত্তর পরিবেশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককেও উন্নত করে। জির্ন ও সিভারের মতে, এই বইটি সামুদ্রিক খাদ্যকে নতুন করে ভালোবাসার সুযোগ করে দিচ্ছে। মাছ কেনার সময় দোকান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুসংগঠিত কিনা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে উৎসের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া উচিত বলে তাঁরা পরামর্শ দেন। এছাড়াও, তাজা মাছ বরফ বা জলের সরাসরি সংস্পর্শে না রেখে ঠান্ডা মার্বেল বা বরফের উপর সাজানো উচিত এবং মাছের উজ্জ্বলতা বা 'গ্লিসেন' হলো তাজা মাছ চেনার সেরা উপায়।

এই প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন মানুষ তাদের খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে ক্রমশ সচেতন হচ্ছে। সামুদ্রিক খাদ্যের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুস্থতা এবং পৃথিবীর প্রতি দায়িত্ববোধকে একীভূত করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার দিকে অগ্রসর হওয়া এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এটি কেবল একটি রান্নার বই নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি পথনির্দেশ, যা প্রকৃতিকে সম্মান জানিয়ে সমৃদ্ধি লাভের পথ দেখায়।

উৎসসমূহ

  • New York Post

  • The Blue Food Cookbook - Andrew Zimmern

  • Cookbook — Fed by Blue

  • Maine author Barton Seaver and chef Andrew Zimmern’s new book shows the importance of ‘eating blue’

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।