হাবল ও ইউক্লিড টেলিস্কোপের যৌথ অভিযান: 'ক্যাটস আই' নীহারিকার নতুন রহস্য উন্মোচন

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

Our ESA/Hubble Picture of the Month features one cosmic eye 👁️ spied by two observatories! The Cat’s Eye Nebula (NGC 6543) is one of the most visually intricate remnants of a dying star. In 1995, Hubble revealed structures in it that helped us understand how planetary nebulae

Two images of a planetary nebula in space. The image to the left, labelled “Euclid & Hubble”, shows the whole nebula and its surroundings. A star in the very centre is surrounded by white bubbles and loops of gas, all shining with a powerful blue light. Farther away a broken ring of red and blue gas clouds surrounds the nebula. The background shows many stars and distant galaxies. A white box indicates the centre of the nebula and this region is the image to the right, labelled “Hubble”. It shows the multi-layered bubbles, pointed jets and circular shells of gas that make up the nebula, as well as the central star, in greater detail.
376
Reply

Туманность Кошачий Глаз (NGC 6543) — один из самых сложных с визуальной точки зрения остатков умирающей звезды. На снимке, сделанном ЕКА и «Хаббл», запечатлен один объект двумя обсерваториями.

নাসা (NASA) ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)-এর যৌথ প্রচেষ্টায় পরিচালিত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং ইউক্লিড টেলিস্কোপ তাদের অনন্য সক্ষমতাকে একত্রিত করে এনজিসি ৬৫৪৩ (NGC 6543) নামক একটি গ্রহীয় নীহারিকার নতুন চিত্র প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে 'ক্যাটস আই' বা বিড়াল-চক্ষু নীহারিকা নামে পরিচিত। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এই অসাধারণ পর্যবেক্ষণটি 'ইএসএ/হাবল ইমেজ অফ দ্য মান্থ' হিসেবে উপস্থাপিত হয়। এই যৌথ উদ্যোগটি মহাকাশ গবেষণার বিভিন্ন যন্ত্রের মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয় এবং ভিন্ন ভিন্ন বৈজ্ঞানিক লক্ষ্যের জন্য তৈরি প্রযুক্তির চমৎকার মেলবন্ধনকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

ড্রাকো নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত এই নীহারিকাটি তার বহুমাত্রিক এবং জটিল কাঠামোর জন্য কয়েক দশক ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার 'গাইয়া' (Gaia) মিশনের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, এই নীহারিকাটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৩০০ থেকে ৪৪০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এই নতুন তথ্যটি পূর্বের ৩৩০০ আলোকবর্ষের ধারণাকে আরও নির্ভুলভাবে সংশোধন করেছে। গ্রহীয় নীহারিকা মূলত নক্ষত্রের বিবর্তনের শেষ পর্যায়ে নির্গত গ্যাসীয় আবরণ। উল্লেখযোগ্য যে, ১৮৬৪ সালে এই 'ক্যাটস আই' নীহারিকা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই প্রথম গ্রহীয় নীহারিকার প্রকৃত স্বরূপ শনাক্ত করা হয়েছিল, যখন বর্ণালী বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অণুর গ্যাসীয় বিকিরণ ধরা পড়েছিল।

হাবল টেলিস্কোপ তার অ্যাডভান্সড ক্যামেরা ফর সার্ভে (ACS) এবং এর বিশেষ অংশ হাই রেজোলিউশন ক্যামেরা (HRC) ব্যবহার করে নীহারিকাটির প্রসারিত গ্যাসীয় কেন্দ্রের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত ছবি ধারণ করেছে। এই নিবিড় পর্যবেক্ষণের ফলে নীহারিকার ভেতরের এককেন্দ্রিক স্তর, উচ্চ-গতির গ্যাসীয় জেট এবং ঘন গ্যাসীয় পিণ্ডগুলো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে, যা মূলত নক্ষত্রের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়েছে। এই কাঠামোগুলোকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা কেন্দ্রীয় নক্ষত্র থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্গত ভরের একটি 'প্যালিওন্টোলজিক্যাল রেকর্ড' বা জীবাশ্ম রেকর্ডের সাথে তুলনা করেছেন, যা নক্ষত্রটির অতীত ইতিহাস বুঝতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে, ইউক্লিড টেলিস্কোপ, যার প্রধান লক্ষ্য হলো সুদূর মহাবিশ্বের মানচিত্র তৈরি করা, এই গবেষণায় একটি বিস্তৃত প্রেক্ষাপট প্রদান করেছে। এর ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ভিউ বা প্রশস্ত দৃশ্যপট নিকট-ইনফ্রারেড এবং দৃশ্যমান আলো ব্যবহার করে নীহারিকাটির উজ্জ্বল কেন্দ্রীয় অঞ্চলের চারপাশের রঙিন গ্যাসীয় খণ্ডগুলোর একটি বিশাল বলয় বা হ্যালো প্রদর্শন করেছে। এই বাইরের বলয়টি নক্ষত্রটি থেকে তার বিবর্তনের অনেক প্রাথমিক পর্যায়ে নির্গত হয়েছিল। ইউক্লিড টেলিস্কোপের 'ভিআইএস' (VIS) যন্ত্রটির দৃষ্টিসীমা এতটাই বিশাল যে এটি পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে প্রায় ২.৫ গুণ বেশি এলাকা একবারে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।

হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে কেন্দ্রের বিস্তারিত তথ্য এবং ইউক্লিড টেলিস্কোপের মাধ্যমে চারপাশের বিস্তৃত পরিবেশের সমন্বয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একই সাথে স্থানীয় জ্যোতির্পদার্থবৈজ্ঞানিক কাঠামো এবং পটভূমির দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো অধ্যয়নের বিরল সুযোগ করে দিয়েছে। নাসা এবং ইএসএ-র এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা জ্যোতির্বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণে একটি আধুনিক পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। যেখানে উচ্চ-রেজোলিউশন এবং প্রশস্ত দৃশ্যপটের সমন্বয় নক্ষত্রের মৃত্যুর প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আরও পূর্ণাঙ্গ এবং গভীর ধারণা প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছে।

এই ধরনের মহাকাশ গবেষণা কেবল একটি নক্ষত্রের শেষ পরিণতির চিত্রই তুলে ধরে না, বরং মহাবিশ্বের বিবর্তনের ধারা বুঝতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাবল ও ইউক্লিডের এই যুগলবন্দী প্রমাণ করে যে, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে একক কোনো যন্ত্রের চেয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার অনেক বেশি কার্যকর ফলাফল দিতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও অনেক যৌথ মিশন মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা মানবজাতির মহাকাশ জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Notiulti

  • ESA

  • Euclid Mission

  • ESA/Hubble

  • Caltech

  • NASA

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।