Nvidia এবং YCombinator দ্বারা সমর্থিত একটি নতুন স্টার্টআপ 2032 সালের মধ্যে চাঁদে প্রথম হোটেল নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক স্টার্টআপ গ্যালাকটিক রিসোর্স ইউটিলাইজেশন স্পেস (Galactic Resource Utilization Space বা GRU Space) ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি তাদের উচ্চাভিলাষী চন্দ্র হোটেলের জন্য প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা স্কাইলার চ্যান (Skyler Chan) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই উদ্যোগটি একটি টেকসই চন্দ্র অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। তার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কোটি কোটি মানুষের জন্য চাঁদ ও মঙ্গলে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করা। ওয়াই কম্বিনেটর (Y Combinator) এক্সিলারেটরের অধীনে এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধারণাটি বিকশিত হয়েছে এবং ২০৩২ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মহাকাশে জটিল অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং চ্যালেঞ্জিং একটি সময়সীমা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
YC একটি স্টার্টআপকে ফান্ড করেছে যা ক্রেটারে বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণের জন্য চন্দ্র মাটি খনন করে।
এই ঐতিহাসিক চন্দ্র মিশনে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করতে আগ্রহী গ্রাহকদের ২,৫০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত প্রাথমিক আমানত বা ডিপোজিট জমা দিতে হবে। তবে সেখানে থাকার সম্পূর্ণ খরচ জনপ্রতি ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে জিআরইউ স্পেস একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করেছে যা তিনটি প্রধান মিশনে বিভক্ত। ২০২৯ সালের জন্য নির্ধারিত প্রথম মিশনে স্থানীয় সম্পদ ব্যবহারের প্রযুক্তি বা ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন (ISRU) পরীক্ষা করা হবে এবং ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ড থেকে সুরক্ষাসম্পন্ন একটি বিশেষ স্ফীত বা ইনফ্ল্যাটেবল কাঠামো প্রদর্শন করা হবে। এরপর ২০৩১ সালের দ্বিতীয় মিশনে একটি বড় আকারের পেলোড চাঁদে পাঠানো হবে এবং একটি 'লুনার পিট' বা চন্দ্র গহ্বরের ভেতরে ছোট আকারের স্ফীত কাঠামো স্থাপন করে উন্নত প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
প্রতিষ্ঠাতার সাথে সাক্ষাৎকার
এই হোটেলের মূল প্রযুক্তিগত ভিত্তি হবে তাদের নিজস্ব পেটেন্ট করা লিভিং মডিউল এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের ধূলিকণা বা রেগোলিথকে শক্তিশালী 'লুনার ব্রিকস' বা চন্দ্র-ইটে রূপান্তরের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। এই নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বিশেষ ধরনের ভূ-পলিমার বা জিওপলিমার ব্যবহার করা হবে যা চাঁদের পরিবেশের জন্য উপযোগী। প্রাথমিক পর্যায়ে হোটেলটি একটি স্ফীত কাঠামো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও, দীর্ঘমেয়াদে সান ফ্রান্সিসকোর বিখ্যাত প্যালেস অফ ফাইন আর্টস-এর স্থাপত্যশৈলী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি স্থায়ী এবং রাজকীয় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে জিআরইউ-এর। এই স্থাপনাটি মহাজাগতিক বিকিরণ ও চরম তাপমাত্রা থেকে বাড়তি সুরক্ষার জন্য চারপাশ থেকে মজবুত চন্দ্র-ইট দিয়ে ঘেরা থাকবে।
টেসলা (Tesla) এবং ভার্জিন গ্যালাকটিক (Virgin Galactic)-এর জন্য থ্রিডি প্রিন্টার তৈরির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন স্কাইলার চ্যান ইতিমধ্যেই স্পেসএক্স (SpaceX) এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আনডুরিল (Anduril)-এর সাথে যুক্ত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বড় অংকের তহবিল সংগ্রহ করেছেন। জিআরইউ স্পেস-এর এই উদ্যোগটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ অভিযানের বৃহত্তর লক্ষ্যগুলোর সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। নাসা (NASA) এই দশকের শেষ নাগাদ চাঁদে স্থায়ী আমেরিকান উপস্থিতি নিশ্চিত করার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এটি তারই একটি অংশ। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান (Jared Isaacman) বেসরকারি খাতের সাথে এই ধরনের অংশীদারিত্বের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিক অ্যাপোলো প্রোগ্রামের সময়ও নাসা এককভাবে কাজ করেনি, বরং বেসরকারি সহযোগীদের সহায়তা নিয়েছিল। স্পেসএক্সের মতো কোম্পানিগুলো মহাকাশে মালামাল পাঠানোর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে, যা এই ধরনের চন্দ্র প্রকল্পের অর্থনৈতিক বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জিআরইউ স্পেস-এর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে চাঁদে উন্নত সড়ক ব্যবস্থা, গুদামঘর এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলা। এই পদক্ষেপগুলো আমেরিকার প্রথম চন্দ্র ঘাঁটি এবং পরবর্তীতে মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এই হোটেলের প্রাথমিক গ্রাহক তালিকায় মূলত পূর্ববর্তী বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের যাত্রী এবং একচেটিয়া ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সন্ধানী ধনাঢ্য ব্যক্তিদের দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ২০২৯ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি অনুমতি লাভ এবং এত অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহলে নানা কৌতূহল ও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।