গ্রহাণু রিউগু থেকে প্রাপ্ত নিউক্লিওবেস পৃথিবীর প্রাণের উৎস সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে

সম্পাদনা করেছেন: Uliana Soloveva

Ryugu গ্রহাণু, যার থেকে নেওয়া একটি নমুনা, এবং DNA ও RNA-এর পাঁচটি নাইট্রোজেন বেস।

২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী 'নেচার অ্যাস্ট্রোনমি'-তে (Nature Astronomy) প্রকাশিত একটি যুগান্তকারী গবেষণা প্রতিবেদনে গ্রহাণু রিউগু থেকে সংগৃহীত নমুনায় পাঁচটি ক্যানোনিকাল নিউক্লিওবেসের সম্পূর্ণ সেটের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থাইমিন এবং ইউরাসিল—যা মূলত পৃথিবীর সমস্ত প্রাণের ডিএনএ (DNA) এবং আরএনএ (RNA) গঠনের মৌলিক ভিত্তি বা বিল্ডিং ব্লক হিসেবে পরিচিত। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সেই হাইপোথিসিস বা অনুমানকে আরও জোরালো ও প্রতিষ্ঠিত করে যে, কার্বন সমৃদ্ধ গ্রহাণুগুলোর পতনের মাধ্যমেই আদি পৃথিবীতে প্রাণের প্রয়োজনীয় প্রিকার্সর বা পূর্বসূরী উপাদানগুলো মহাকাশ থেকে এসে পৌঁছেছিল।

জাপানি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা পরিচালিত 'হায়াবুসা-২' (Hayabusa2) মিশনটি ২০১৪ সালে মহাকাশে যাত্রা শুরু করেছিল এবং প্রায় ৩০০ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৯০০ মিটার ব্যাসের গ্রহাণু রিউগুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। দীর্ঘ অভিযানের পর ২০২০ সালে এই মিশনের একটি বিশেষ ক্যাপসুল ৫.৪ গ্রাম মহাজাগতিক পদার্থ নিয়ে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে। উল্লেখযোগ্য যে, হায়াবুসা-২ ছিল ইতিহাসের প্রথম মিশন যা কোনো গ্রহাণুর উপরিভাগের নিচের স্তর বা সাব-সারফেস থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। এর ফলে কোটি কোটি বছর ধরে মহাকাশে অপরিবর্তিত থাকা এবং কোনো ধরনের পার্থিব দূষণমুক্ত প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্কের আদি পদার্থগুলো বিজ্ঞানীদের হাতে আসে, যা সাধারণত পৃথিবীতে পাওয়া উল্কাপিণ্ডগুলোর ক্ষেত্রে পাওয়া সম্ভব হয় না।

এই গবেষণায় জাপানিজ এজেন্সি ফর মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (JAMSTEC)-এর ডক্টর তোশিকি কোগা, ওয়েলিংটনের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির মরগান ক্যাবল এবং আলকালা ইউনিভার্সিটির ডক্টর সিজার মেনর সালভান সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ডক্টর কোগা তার পর্যবেক্ষণে লক্ষ্য করেছেন যে, গ্রহাণুটির মূল পিণ্ডে পিউরিন ও পিরিমিডিন নিউক্লিওবেসের অনুপাতের সাথে সেখানে বিদ্যমান অ্যামোনিয়ার ঘনত্বের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক রয়েছে। এই বিশেষ সম্পর্কটি নির্দেশ করে যে, সৌরজগতের প্রাথমিক বিকাশের সময় এই জটিল অণুগুলো গঠনের এমন কোনো রাসায়নিক পথ ছিল যা ইতিপূর্বে বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা ছিল। গবেষক মরগান ক্যাবল এই ফলাফলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে মহাবিশ্বের বিভিন্ন গ্রহ ব্যবস্থায় প্রাণের আণবিক ভিত্তিগুলো অত্যন্ত ব্যাপকভাবে এবং সহজলভ্যভাবে ছড়িয়ে আছে।

রিউগু থেকে সংগৃহীত নমুনার সাথে বিখ্যাত মার্চিসন (Murchison) উল্কাপিণ্ড এবং নাসা-র ওসিরিস-রেক্স (OSIRIS-REx) মিশন দ্বারা সংগৃহীত গ্রহাণু বেন্নু (Bennu)-র নমুনার একটি সূক্ষ্ম তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, রিউগুর নমুনায় পিউরিন (অ্যাডিনিন ও গুয়ানিন) এবং পিরিমিডিন (সাইটোসিন, থাইমিন ও ইউরাসিল) এর পরিমাণ প্রায় ভারসাম্যপূর্ণ এবং সুষম অবস্থায় রয়েছে। রাসায়নিক গঠনের এই সূক্ষ্ম বৈচিত্র্যগুলো বিজ্ঞানীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে কীভাবে একটি গ্রহাণুর নিজস্ব বিবর্তনীয় ইতিহাস এবং তার আদি পরিবেশের স্থানীয় অবস্থাগুলো সেখানে প্রিবায়োটিক সংশ্লেষণ বা প্রাণের আদি উপাদান তৈরির প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

তবে গবেষক দল এটি স্পষ্টভাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে জানিয়েছেন যে, এই জৈব যৌগগুলোর সন্ধান পাওয়ার অর্থ এই নয় যে গ্রহাণু রিউগুতে কোনো সময় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। বরং এই আবিষ্কারটি এটি নিশ্চিত করে যে, কার্বন সমৃদ্ধ গ্রহাণুগুলো প্রাণের উৎপত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অত্যন্ত কার্যকর ভাণ্ডার এবং বাহক হিসেবে কাজ করে। ডক্টর সিজার মেনর সালভান তার বক্তব্যে উপসংহার টেনে বলেন যে, এই গবেষণার ফলাফলগুলো প্রমাণ করে যে প্রিবায়োটিক বা প্রাণহীন মহাজাগতিক পরিবেশে প্রাণের মৌলিক উপাদানগুলো খুব সহজেই গঠিত হতে পারে। পরবর্তীতে এই উপাদানগুলো পৃথিবীতে স্থানান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে প্রাণের সঞ্চার ঘটাতে পারে, যা মূলত মহাকাশকে একটি বিশাল এবং অন্তহীন রাসায়নিক গবেষণাগার হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে।

9 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Мегавселена

  • نبأ العرب

  • The Japan Times

  • Nature Astronomy

  • Sky & Telescope Magazine

  • Te Herenga Waka - Victoria University of Wellington

  • Universidad de Alcalá (UAH)

  • اليوم السابع

  • الوطن

  • المصري اليوم

  • وزارة الأوقاف

  • النهار

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

🪐🔭 Vie extraterrestre : 45 exoplanètes prometteuses désormais dans le viseur des scientifiques. 🔹 Une équipe menée par la professeure Lisa Kaltenegger, directrice du Carl Sagan Institute à Cornell, a compilé un catalogue de planètes rocheuses situées dans la zone habitable de

Image
186
Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।