জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে স্তন্যপায়ী প্রাণীর রক্তের রসায়ন নির্দেশক
সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Martynovska 17
সাম্প্রতিক পরিবেশগত গবেষণাগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শারীরবৃত্তীয় চাপ পরিমাপের জন্য রক্তরসের অসমোল্যালিটিকে একটি সুনির্দিষ্ট সূচক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এই গবেষণাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে পরিবেশগত প্রতিকূলতা সরাসরি প্রাণীর অভ্যন্তরীণ হোমিওস্ট্যাসিসকে প্রভাবিত করছে, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রতিক্রিয়া। বিশেষত, শুষ্ক অঞ্চলের প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি পানিশূন্যতা এবং শারীরিক চাপের সমন্বিত প্রতিফলন ঘটায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাকুলেন্ট ক্যারো অঞ্চলে আফ্রিকান স্ট্রাইপড মাউসের (Rhabdomys pumilio) উপর পরিচালিত একটি সুনির্দিষ্ট সমীক্ষায় পরিবেশগত কঠোরতা এবং রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধির মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে। এই অঞ্চলে শীতকাল শীতল ও আর্দ্র থাকে, যখন খাদ্যের প্রাচুর্য থাকে, কিন্তু গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও শুষ্ক হয়, যেখানে সম্পদের অভাব দেখা যায়। উইটওয়াটারসর্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অফ স্ট্র্যাসবার্গ এবং ইউনিভার্সিটি অফ টুকুর গবেষকরা ১২ বছরের মাঠ পর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে দেখেছেন যে শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষত যখন খাদ্যের প্রাপ্যতা কম ছিল, তখন স্ট্রাইপড মাউসের রক্তরসের অসমোল্যালিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। যদিও ঋতুভেদে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অসমোল্যালিটির পূর্বাভাস দিতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ছিল, তবে শুষ্ক মৌসুমের মধ্যে খাদ্যের অভাব অসমোল্যালিটির তারতম্যের অধিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছিল।
এই গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট শারীরিক চাপ কেবল আফ্রিকান মাউসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অস্ট্রেলিয়ার রেইনফরেস্টের রিংটেইল পসামের (Pseudochirops archeri এবং Hemibelideus lemuroides) জনসংখ্যা হ্রাসের ক্ষেত্রেও এই চাপ একটি প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিম্ন উচ্চতা এবং কম পুষ্টির স্থানগুলিতে উভয় প্রজাতির জনসংখ্যায় পতন ঘটেছে, যেখানে P. archeri-এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম হওয়া এবং পানিশূন্যতার কারণে বেঁচে থাকার হার হ্রাস পাওয়ায় জনসংখ্যার পরিবর্তন ঘটেছে। এই ধরনের শারীরবৃত্তীয় সীমাবদ্ধতাগুলি প্রাণীদের অভিযোজন ক্ষমতার সীমা নির্দেশ করে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের বিস্তৃত প্রভাব বোঝার জন্য অপরিহার্য।
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে, শরীরের আকারের পরিবর্তনও জলবায়ু পরিবর্তনের একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অসমোটিক ভারসাম্যের মধ্যেকার আপসকে প্রতিফলিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রজাতির উপরের তাপমাত্রার সহনশীলতার সীমা এবং নিম্ন শুষ্কতা সীমার কাছাকাছি পরিস্থিতিতে ট্যাক্সা জুড়ে ছোট শরীরের ভর পরিমাপ করা হয়েছে। ছোট শরীরের আকার তাপ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা উন্নত করলেও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, যা অসমোল্যালিটি বৃদ্ধির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রতিফলিত হতে পারে। এই ধরনের পরিবর্তনগুলি বাস্তুতান্ত্রিক, বিবর্তনীয় এবং সংরক্ষণগত প্রভাব ফেলতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে বৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণীরা মূলত তাদের ফেনোটাইপিক প্লাস্টিসিটির উপর নির্ভর করে টিকে থাকে, যেখানে ফিজিওলজিক্যাল এবং আচরণগত পরিবর্তনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্লাস্টিসিটির কার্যকারিতা সম্পর্কে খুব কম জানা যায়, তাই দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে অনেক মুক্ত-জীবন্ত প্রাণীর শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করা ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তন জীববিজ্ঞানের গবেষণার জন্য অপরিহার্য। স্ট্রাইপড মাউসের উপর পরিচালিত এই দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা প্রমাণ করে যে রক্তরসের অসমোল্যালিটি হল শুষ্ক অঞ্চলের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের পরিবেশগত কঠোরতার একটি নির্ভরযোগ্য পরিমাপক। এই ধরনের সূক্ষ্ম জৈবিক পরিমাপগুলি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়নে একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে।
17 দৃশ্য
উৎসসমূহ
The Conversation
Journal of Experimental Biology
PubMed
ResearchGate
Journal of Experimental Biology
ResearchGate
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
