ইউরোপার বরফ স্তরের মধ্য দিয়ে মহাসাগরে প্রাণদায়ী উপাদান পৌঁছানোর নতুন গাণিতিক মডেল

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

বিজ্ঞানীরা নির্ধারণ করেছেন কীভাবে پুষ্টি উপাদানগুলি Europa-এর পৃষ্ঠ থেকে তার ভূগর্ভস্থ মহাসাগরে পৌঁছতে পারে।

২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে বৃহস্পতির বরফাবৃত উপগ্রহ ইউরোপার উপরিভাগ থেকে এর অভ্যন্তরীণ মহাসাগরে প্রাণধারণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান স্থানান্তরের একটি তাত্ত্বিক মডেল উপস্থাপন করা হয়েছে। ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ভার্জিনিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা একটি বিশেষ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার হাইপোথিসিস দিয়েছেন, যা সূর্যালোকের অনুপস্থিতিতেও সালোকসংশ্লেষণ ছাড়াই জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোকে উল্লম্বভাবে গভীরে পৌঁছে দিতে সক্ষম। ইউরোপার উপরিভাগের চরম শীতলতা এবং বিকিরণের কারণে সেখানে প্রাণের টিকে থাকা কঠিন হলেও, এই নতুন মডেলটি গভীর মহাসাগরে পুষ্টি সরবরাহের একটি কার্যকর পথ দেখিয়েছে।

এই প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো পৃথিবীর ভূত্বকের স্তরায়ন বা ডিল্যামিনেশন প্রক্রিয়ার অনুরূপ একটি মডেল। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, ইউরোপার বরফের আবরণটি সব জায়গায় সমান নয়; লবণের আধিক্য থাকা বরফের অংশগুলো আশেপাশের বিশুদ্ধ বরফের তুলনায় অধিক ঘন এবং যান্ত্রিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই ভারী লবণের পিণ্ডগুলো উপরিভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বরফের আস্তরণের মধ্য দিয়ে নিচে নামতে শুরু করে এবং একসময় তরল পানির স্তরে পৌঁছায়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৃহস্পতির তীব্র বিকিরণের ফলে উপরিভাগে তৈরি হওয়া অক্সিডেন্টগুলো মহাসাগরের গভীরে স্থানান্তরিত হয়।

গাণিতিক মডেলিং অনুযায়ী, যদি বরফের স্তরের গঠন দুর্বল হয়, তবে এই নিমজ্জন প্রক্রিয়াটি ভূতাত্ত্বিক সময়ের হিসেবে মাত্র ৩০,০০০ বছরের মতো স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হতে পারে। তবে আরও রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ১ থেকে ১০ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই গবেষণার প্রধান লেখক হলেন ভার্জিনিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পোস্টডক্টরাল গবেষক অস্টিন গ্রিন এবং সহ-লেখক হলেন ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূ-পদার্থবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক ক্যাথরিন কুপার। পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর সম্মিলিত আয়তনের তুলনায় দ্বিগুণ বড় ইউরোপার এই উপ-বরফ মহাসাগরে ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে এই নতুন প্রক্রিয়াটি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ এটি মহাসাগরের রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

নাসা-র বর্তমান মিশন 'ইউরোপা ক্লিপার'-এর প্রেক্ষাপটে এই তাত্ত্বিক আবিষ্কারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। মহাকাশযানটি ২০২৫ সালের ১ মার্চ মঙ্গল গ্রহের পাশ দিয়ে মহাকর্ষীয় সহায়তা (gravity assist) গ্রহণ করেছে এবং ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতি সিস্টেমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই মিশনটি ইউরোপার বরফ স্তরের গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে যা এই মডেলটিকে আরও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে।

এর আগে ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর 'জুনো' মহাকাশযানের ফ্লাইবাই থেকে প্রাপ্ত তথ্য ইউরোপার ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তা নিশ্চিত করেছিল, যদিও তা মূলত আনুভূমিক ছিল। লবণের নিমজ্জনের এই নতুন প্রক্রিয়াটি জুনোর তথ্যে পাওয়া ছোট ছিদ্রগুলোর ওপর নির্ভর করে না এবং এটি পুরু বরফের স্তরের মধ্য দিয়েও মহাসাগরে রাসায়নিক পুষ্টি সরবরাহের একটি নির্ভরযোগ্য ও বৃহৎ পথ নির্দেশ করে। এই তাত্ত্বিক কাঠামোটি ভবিষ্যতে বৃহস্পতির উপগ্রহগুলোতে প্রাণের অনুসন্ধান অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে এবং ইউরোপা ক্লিপার মিশনের তথ্য বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Stiri pe surse

  • Българска Телеграфна Агенция

  • ScienceDaily

  • Space.com

  • WSU Insider

  • The Debrief

  • NASA Science

  • ScienceDaily

  • Wikipedia

  • NASA Science

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।