কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি গবেষণায় গোল্ডেন রিট্রিভার কুকুরের মেজাজের জিনগত ভিত্তি উন্মোচিত হয়েছে, যা মানুষের আবেগের সাথে অপ্রত্যাশিত সংযোগ প্রদর্শন করে। এই গবেষণাটি প্রাণী ও মানুষের আচরণের মধ্যে গভীর জিনগত ঐক্য তুলে ধরে, যা প্রাণিবিজ্ঞানে একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করে। গবেষকরা এক হাজার তিনশত গোল্ডেন রিট্রিভারের জিনোম বিশ্লেষণ করেন এবং মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত আচরণগত মূল্যায়নের সাথে তাদের জেনেটিক মার্কারগুলির তুলনা করেন।
এই তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কুকুরের ভয়, আগ্রাসন এবং প্রশিক্ষণের যোগ্যতার মতো বৈশিষ্ট্যগুলিকে প্রভাবিত করে এমন নির্দিষ্ট জিন শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো, চিহ্নিত বারোটি কুকুরের জিন মানুষের আচরণগত বৈশিষ্ট্য এবং আবেগের ভিত্তি হিসেবেও কাজ করে। এই ফলাফলগুলি দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত করে যে কুকুর এবং মানুষের মধ্যে আচরণের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ জিনগত উত্তরাধিকার বিদ্যমান, যা প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস (PNAS)-এ প্রকাশিত হয়েছে।
ডঃ এলেনর রাফানের নেতৃত্বে এই গবেষণায় দেখা যায়, যে জিনগুলি কুকুরের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলি মানুষের মেজাজ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সাথেও সম্পর্কযুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, PTPN1 জিনটি গোল্ডেন রিট্রিভারদের মধ্যে আগ্রাসনের সাথে যুক্ত ছিল, এবং এটি মানুষের মধ্যে বিষণ্নতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথেও সম্পর্কিত বলে জানা যায়। এই জিনটি, যা প্রোটিন টাইরোসিন ফসফাটেজ নন-রিসেপ্টর টাইপ ১ (PTP1B) এনকোড করে, মানুষের ক্ষেত্রে টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত।
আরেকটি জিনগত পরিবর্তন, যা রিট্রিভারদের মধ্যে ভয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত, তা মানুষের অতিরিক্ত উদ্বেগ প্রবণতাকেও প্রভাবিত করে। এই সংযোগগুলি প্রমাণ করে যে কুকুরের কিছু মানসিক চাপ বা 'খারাপ আচরণ' আসলে শক্তিশালী জিনগত প্রবণতার ফল হতে পারে, যা মালিকদের মধ্যে বৃহত্তর সহানুভূতি জাগিয়ে তুলতে উৎসাহিত করে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে গোল্ডেন রিট্রিভারদের 'প্রশিক্ষণযোগ্যতা' ROMO1 নামক একটি জিনের সাথে সংযুক্ত, যা মানুষের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তা এবং আবেগগত সংবেদনশীলতার সাথে যুক্ত।
প্রথম লেখক এনোখ আলেকজ উল্লেখ করেছেন যে, এই ফলাফলগুলি দেখায় যে জিনগুলি আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে কিছু কুকুর প্রাকৃতিকভাবেই বিশ্বকে চাপযুক্ত মনে করার প্রবণতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যদি তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, তবে তাদের আচরণকে ভুলভাবে 'খারাপ আচরণ' হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে, যখন তারা আসলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। এই ধরনের অন্তর্দৃষ্টি প্রশিক্ষণের পদ্ধতি এবং পশুচিকিৎসা যত্নের ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশ দিতে পারে, যেখানে কুকুরের আবেগময় জগৎকে আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হবে।
এই গবেষণাটি কেবল গোল্ডেন রিট্রিভারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ইঙ্গিত দেয় যে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি প্রাচীন জিনগত ভিত্তি বিদ্যমান। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যে কুকুরের মানুষের প্রতি সামাজিক আচরণের পিছনেও একটি সাধারণ জিনগত ভিত্তি রয়েছে, যা মানুষের উইলিয়ামস-বেউরেন সিনড্রোমের সাথে সম্পর্কিত। এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানগুলি পশু কল্যাণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে, যেখানে আচরণের সমস্যাগুলিকে কেবল প্রশিক্ষণের ত্রুটি হিসেবে না দেখে জৈবিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা হবে।




