ডিজিটাল উপবাস: কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সুসংগঠিত বিচ্ছিন্নতার প্রভাব

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণার সাম্প্রতিক পর্যালোচনা অনুসারে, সুসংগঠিত ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা বা 'ফোন ফাস্টিং' কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার প্রায় ৪৮ শতাংশ স্মার্টফোন আসক্তিতে ভুগতে পারে, যার মধ্যে সামাজিক মাধ্যমের 'যেন-সম্পর্ক' দ্বারা কিশোর-কিশোরীরা বিশেষভাবে প্রভাবিত। এই আসক্তি উদ্বেগ, হতাশা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, বিশেষত যখন তারা ডিভাইস থেকে দূরে থাকতে অক্ষম হয়।

একটি নির্দিষ্ট গবেষণায়, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিন সপ্তাহের জন্য 'ফোন উপবাস' পালনের ফলে সাধারণ মানসিক সুস্থতা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই নিবৃত্তির ফলে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার বন্ধ করার পর বিষণ্ণতার লক্ষণ ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং শারীরিক গঠনের সন্তুষ্টির মাত্রাও উন্নত হয়েছে। এই ফলাফলগুলি নির্দেশ করে যে, স্বল্প সময়ের ডিজিটাল বিরতিও ডিজিটাল অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাধারণ ছুটির দিনের চেয়ে বেশি পরিমাপযোগ্য সুবিধা প্রদান করে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল কর্টেক্স প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় তারা প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবের প্রতি বেশি সংবেদনশীল।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক কিশোর-কিশোরী বিশ্বাস করে যে সোশ্যাল মিডিয়া তাদের এবং তাদের সমবয়সীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, এবং প্রায় একই সংখ্যক ব্যবহারকারী বিভিন্ন কারণে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমিয়েছে। আঁচল ফাউন্ডেশনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৮.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত ঘুম পায় না, যার মধ্যে ৩০.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী রাত জেগে ইন্টারনেট ব্যবহারকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করেছে। এই গবেষণার ফলাফলগুলি নিয়ন্ত্রিত হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যেখানে বাস্তব জগতের মিথস্ক্রিয়া এবং প্রাপ্তবয়স্কদের দৃষ্টান্তমূলক আচরণকে পারিবারিক ডিজিটাল ব্যবহারের নিয়মাবলী প্রণয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে।

ডিজিটাল ডিটক্সের সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে উন্নত মানসিক সুস্থতা, যা ক্ষতিকারক অনলাইন বিষয়বস্তু এবং সামাজিক তুলনা থেকে দূরে থাকার কারণে ঘটে। উপরন্তু, মুখোমুখি আলাপচারিতা এবং দলগত কার্যকলাপ অপরিহার্য সামাজিক দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে। আমেরিকান কিশোর-কিশোরীদের প্রায় অর্ধেক প্রায় সারাক্ষণ অনলাইনে থাকে বলে পূর্বে পিউ-এর একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল। ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়াতে পারে, যা তাদের মধ্যে সুখের সাথে সম্পর্কিত এক ধরণের 'প্রবাহ' (flow) অনুভূতি তৈরি করে।

ইউসিএলএ-এর একটি গবেষণা উপসংহারে পৌঁছেছে যে, ডিজিটাল উপবাস অন্যের আবেগগত অভিব্যক্তি পড়ার ক্ষমতা উন্নত করে, যা সামাজিক বিকাশের জন্য একটি মূল্যবান দক্ষতা। গ্লোবাল রিসার্চ এজেন্সি জিডব্লিউআই-এর একটি সমীক্ষা অনুসারে, ২০২২ সাল থেকে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ডিভাইস থেকে বিরতি নেওয়া ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ৪০ শতাংশ এখন মাঝে মাঝে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তির সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে এবং স্বাস্থ্যকর ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Vienna Online

  • Symposium 2026 | Handy – Sucht, Schreckgespenst oder Geißel unserer Zeit | Sigmund Freud PrivatUniversität Wien

  • Smartphone as a Drug: When the Smartphone Becomes an Addiction - VOL.AT

  • 18th International Conference on Addiction & Psychiatry 2026 in Vienna, Austria

  • Anton Proksch Institut in Wien

  • Smartphone Addiction Statistics 2026: How Bad Is It Now? - XtendedView

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।