সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সচেতনতায় প্রগতিশীল শিক্ষা: এনএমএমসি কেন্দ্রে দীপাবলি উদযাপন
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
প্রগতিশীল শিক্ষণ পদ্ধতির মূল ভিত্তি হলো হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং সামাজিক সংহতি নিশ্চিত করা, যেখানে সকল শিক্ষার্থী সাংস্কৃতিক আচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি কেবল শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর সমাজের সাথে সংযোগ স্থাপনের এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই আদর্শের প্রতিফলন দেখা যায় নভি মুম্বাই পৌর কর্পোরেশনের (এনএমএমসি) অধীনস্থ বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য স্থাপিত ইটিসি কেন্দ্রে নেওয়া এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগে।
বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরা অক্টোবর ২০২৫-এ দীপাবলি উদযাপনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে, যা তাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ছিল। তারা রঙ্গোলি তৈরি করা এবং পবিত্র গাভী পূজার ঐতিহ্যবাহী প্রথা 'বাসুবারাস'-এ অংশ নেয়। এই ধরনের হাতে-কলমে সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা শিশুদের মধ্যে গভীর সংযোগ স্থাপন করে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হয়। অনুষ্ঠানে এনএমএমসি কমিশনার ড. কৈলাস শিন্ডে উপস্থিত ছিলেন এবং শিশুদের সাথে আলাপচারিতায় মিলিত হন। শিশুরা তাদের হাতে তৈরি প্রদীপ ও তুলসী চারা উপহার হিসেবে তাঁকে প্রদান করে, যা প্রতিষ্ঠানের সম্মান ও স্বীকৃতির পরিবেশকে তুলে ধরে।
ইটিসি কেন্দ্রের পরিচালক ড. অনুরাধা বাবার উল্লেখ করেন যে এই ধরনের আয়োজন বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং তাদের মধ্যে সহপাঠীদের মতো সামাজিক অভিজ্ঞতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এই অন্তর্ভুক্তি নীতি বৃহত্তর প্রগতিশীল লক্ষ্যগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা পরিবেশগত দায়িত্ববোধের মাধ্যমেও প্রতিফলিত হয়। ড. শিন্ডে পূর্বে পরিবেশ-বান্ধব উদযাপনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছিলেন; উদাহরণস্বরূপ, তিনি আগস্ট ২০২৪-এ 'প্লাস্টিক-মুক্ত গণেশোৎসব'-এর জন্য আবেদন জানান এবং অক্টোবর ২০২৪-এ 'স্বচ্ছ দীপাবলি' বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অভিযান শুরু করেন। এই পদক্ষেপগুলি প্রমাণ করে যে সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে দায়িত্বশীল নাগরিকতা ও পরিবেশগত অনুশীলনের সাথে একীভূত করার প্রতি এনএমএমসি অঙ্গীকারবদ্ধ।
পরিবেশগত সচেতনতা এই শিক্ষামূলক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এনএমএমসি কমিশনার ড. কৈলাস শিন্ডে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন তারা আতশবাজি ব্যবহার না করে মাটির প্রদীপ বা পান্তা জ্বালান এবং প্লাস্টিক বা কাগজের আকাশ লণ্ঠন পরিহার করেন। পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগের কারণে, এনএমএমসি বারবার আতশবাজি নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, কারণ গবেষণায় দেখা গেছে যে দীপাবলির সময় বায়ুর গুণমান সূচক (AQI) সাধারণত ৯১ থেকে বেড়ে ২১২-এ পৌঁছায়, যা ক্ষতিকারক রাসায়নিক নির্গমনের ফলস্বরূপ।
শিক্ষার এই আধুনিক ধারা কেবল সামাজিক সমতার পাঠই দেয় না, বরং পরিবেশগত সচেতনতাও জাগ্রত করে। এটি গতানুগতিক মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাচীন প্রতিষ্ঠানও একসময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যা দেখায় যে শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলি সর্বদা বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এই অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষণ পদ্ধতি শিশুদের মধ্যে নিজেদের মূল্যবোধ সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি করে এবং তাদের বৃহত্তর সমাজের অংশ হিসেবে দেখতে উৎসাহিত করে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতের নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা এবং পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলতে সহায়ক হবে।
উৎসসমূহ
Free Press Journal
Newsband
Times of India
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
