ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে অফশোর উইন্ড এনার্জি টাস্ক ফোর্স গঠন: পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে নতুন অংশীদারিত্ব

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারত এবং যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি যৌথ 'অফশোর উইন্ড এনার্জি টাস্ক ফোর্স' বা সমুদ্রতীরবর্তী বায়ুশক্তি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। এই নতুন সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হলো ভারতের ক্রমবর্ধমান অফশোর উইন্ড এনার্জি ইকোসিস্টেমের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা। এই উচ্চ-পর্যায়ের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই খাতের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবহারিক ও কারিগরি জটিলতাগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভারতের উচ্চাভিলাষী জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং ভারতের বিশাল বাজার সম্ভাবনা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটানো। 'ভিশন ২০৩৫' এবং চতুর্থ ভারত-যুক্তরাজ্য জ্বালানি সংলাপের অধীনে এই উদ্যোগটি তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ইকোসিস্টেম পরিকল্পনা ও বাজার নকশা (যার মধ্যে সমুদ্রতলের লিজ এবং আয়ের নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত), অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন (বন্দরের আধুনিকায়ন এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি), এবং অর্থায়ন ও ঝুঁকি হ্রাস (প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ)। ভারতের নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এই বিশেষ ব্যবস্থাকে 'ট্রাস্টফোর্স' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা দুই দেশের মধ্যকার গভীর পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটায়।

এই অংশীদারিত্ব সরাসরি ভারতের জাতীয় লক্ষ্যগুলোকে সমর্থন করে, যার মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা অর্জন এবং ২০৭০ সালের মধ্যে 'নেট জিরো' বা শূন্য কার্বন নিঃসরণের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা। বর্তমানে ভারত ইতিমধ্যে অ-জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক ২৭২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে সৌরশক্তির পরিমাণ ১৪১ গিগাওয়াটের বেশি এবং বায়ুশক্তির পরিমাণ ৫৫ গিগাওয়াট। প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রকল্পগুলোকে উৎসাহিত করতে ভারত সরকার ৭,৪৫৩ কোটি রুপি (যা প্রায় ৭১০ মিলিয়ন পাউন্ডের সমতুল্য) মূল্যের ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং (VGF) অনুমোদন করেছে। উল্লেখ্য যে, ভারতের উপকূলরেখা বরাবর অফশোর উইন্ড বা সমুদ্রতীরবর্তী বায়ুশক্তির সম্ভাবনা প্রায় ৭১ গিগাওয়াট বলে প্রাথমিক গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিশ্বজুড়ে অফশোর উইন্ড এনার্জির বাজার ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ১০০ গিগাওয়াট অতিক্রম করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা এই দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের সময়োপযোগিতাকেই স্পষ্ট করে তোলে। এই ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে 'কন্ট্রাক্টস ফর ডিফারেন্স' (CfD) নিলামের মাধ্যমে রেকর্ড ৮.৪ গিগাওয়াট নতুন অফশোর উইন্ড প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা ৪০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, চীন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের প্রথম ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার অফশোর উইন্ড টারবাইন গ্রিডের সাথে যুক্ত করেছে, যা এই খাতে উন্নত প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। ভারতে প্রাথমিক গবেষণায় গুজরাট এবং তামিলনাড়ু উপকূলের কাছে প্রথম অফশোর প্রকল্পগুলোর জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে।

অফশোর উইন্ড এনার্জি খাতের এই সাফল্য ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার লিন্ডি ক্যামেরনসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এই যৌথ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো ভারতের জ্বালানি রূপান্তরের পরবর্তী ধাপে দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নির্ভরযোগ্যতা, স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে সহায়ক হবে।

29 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • https://www.outlookbusiness.com/

  • Earth.com

  • SolarQuarter

  • DD News

  • Whalesbook

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।