২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এশীয় চাহিদার জোয়ারে জাপানের রপ্তানি ১৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

জাপানের রপ্তানি

জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যা দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে। এই সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে জাপানের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি গত তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানি পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকেই নির্দেশ করে। বাজার বিশ্লেষকদের ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল, প্রকৃত ফলাফল তাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।

এই ইতিবাচক ধারাটি জাপানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি টানা পঞ্চম মাসের মতো রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৫.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল, যা জানুয়ারিতে এসে আরও বেগবান হয়েছে। এই ধারাবাহিক উন্নতি জাপানের উৎপাদন খাতের স্থিতিশীলতা এবং বিশ্ববাজারে তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। বিশেষ করে এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার বিষয়টি এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা জাপানের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক কৌশলের একটি অংশ।

এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে এশীয় অংশীদারদের কাছ থেকে আসা শক্তিশালী চাহিদা। বিশেষ করে চীনের বাজারে জাপানি পণ্যের সরবরাহ বার্ষিক ভিত্তিতে ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া চন্দ্র নববর্ষ বা লুনার নিউ ইয়ারের ছুটির আগে আগাম পণ্য সরবরাহের কারণে এই বিশাল উল্লম্ফন ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, এশিয়ার দেশগুলোতে জাপানের মোট রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সক্রিয়তার একটি বড় নির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।

পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স খাত সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির যে বৈপ্লবিক প্রসার ঘটছে, তার ফলে সেমিকন্ডাক্টর এবং ইলেকট্রনিক উপাদানের চাহিদা এখন তুঙ্গে। এই বিশেষ খাতে জাপানের রপ্তানি প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার এবং উন্নত কম্পিউটিং ডিভাইসের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধির ফলে জাপানি চিপ নির্মাতারা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক লাভবান হচ্ছে, যা তাদের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে অপরিহার্য করে তুলেছে।

আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, জাপানের রপ্তানি বাজার কেবল চীন বা বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই। হংকংয়ে রপ্তানি অবিশ্বাস্যভাবে ৭৩.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। এছাড়া তাইওয়ানে ৩৫.৩ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৩০.৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ১০.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান (ASEAN) ভুক্ত দেশগুলোতেও রপ্তানি ৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৈচিত্র্যময় প্রবৃদ্ধি জাপানের রপ্তানি ঝুড়িকে আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী করেছে এবং একক কোনো বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে।

সবশেষে, ঋতুভিত্তিক প্রভাব বা ক্যালেন্ডার ইফেক্ট এই প্রবৃদ্ধির পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৬ সালে লুনার নিউ ইয়ার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে হওয়ায় জানুয়ারি মাসে উৎসব-পূর্ববর্তী কেনাকাটা এবং শিল্প উৎপাদনের কাঁচামাল সংগ্রহের ব্যাপক চাপ ছিল। গত বছর এই উৎসবটি জানুয়ারির শেষের দিকে বা আরও আগে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তুলনামূলক বিচারে এই বছরের জানুয়ারির পরিসংখ্যান অনেক বেশি শক্তিশালী দেখাচ্ছে। তবে এই পরিসংখ্যানগত প্রভাবের বাইরেও জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্যের সামগ্রিক চিত্রটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং এটি দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

29 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Owensboro Messenger-Inquirer

  • WKZO

  • The Straits Times

  • CHOSUNBIZ

  • The Japan Times

  • Reuters

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।