২০২৬ সালের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে উরসুলা ফন ডার লেনের ঐতিহাসিক ভাষণ: ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার নতুন রূপরেখা

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

আজ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের (Munich Security Conference 2026) একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধিবেশনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেন তার মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান এই বৈশ্বিক নিরাপত্তা ফোরামের দ্বিতীয় দিনে তার এই ভাষণটি ছিল বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের অধিবেশনে দেওয়া তার এই ভাষণে ফন ডার লেন লিসবন চুক্তির ৪২.৭ অনুচ্ছেদ তথা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারাটিকে বাস্তবায়িত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। "একের জন্য সকলে এবং সকলের জন্য এক" — এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বিকল্প নয়, বরং ইইউ চুক্তির অধীনে থাকা একটি সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা যা বর্তমান পরিস্থিতিতে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ইউরোপের বর্তমান অবস্থাকে একটি "স্বাধীনতার মুহূর্ত" হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন যে, মহাদেশটিকে এখন নিজের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইউরোপকে অবশ্যই শক্তিশালী হতে হবে এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তবে এই স্বনির্ভরতা আটলান্টিক মহাসাগরের ওপারের মিত্রদের সাথে সম্পর্ক বা ন্যাটোর গুরুত্বকে কমিয়ে দেবে না, বরং ট্রান্স-আটলান্টিক জোটকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইউক্রেন সংকটের উদাহরণ টেনে তিনি শিল্প সক্ষমতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, "প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানুষের জীবন শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে একটি দেশের শিল্প সক্ষমতার ওপর।" এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান দূর করার পরামর্শ দেন। দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ইউক্রেনের কাছ থেকে সাহসিকতা ও অগ্রিম শক্তি ব্যবহারের কৌশল শেখার প্রয়োজনীয়তাও তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।

প্রতিরক্ষা খাতে ইউরোপের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগের একটি চিত্র তুলে ধরে ফন ডার লেন জানান যে, যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ইইউ-এর প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়ে বলেন যে, ব্যয়ের এই বর্তমান গতিধারা বজায় থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যেই প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের দিক থেকে ইউরোপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। ব্রেক্সিটের দশ বছর পর, একটি অস্থিতিশীল বিশ্বে কীভাবে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা যায় এবং নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্ককে কীভাবে আরও নিবিড় করা যায়, তা ছিল এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু। দুই নেতাই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একমত পোষণ করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তার অফিসিয়াল হ্যান্ডেল @vonderleyen থেকে আজ বেশ কিছু পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে তিনি সম্মিলিতভাবে প্রস্তুত থাকার (collectively ready) প্রয়োজনীয়তা এবং যুক্তরাজ্যের সাথে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব নিয়ে তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার এই বক্তব্যগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে, ২০২৬ সালের এই মিউনিখ সম্মেলন ইউরোপের প্রতিরক্ষা নীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

21 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • The World Economic Forum

  • Science|Business

  • Vertex AI Search

  • The Guardian

  • ЭХО

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।