বেলারুশে রাশিয়ার 'ওরেখনিক' হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন: স্যাটেলাইট চিত্রে উদ্বেগজনক প্রমাণ

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

আমেরিকান গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে যে, রাশিয়া বেলারুশের প্রাক্তন 'ক্রিচেভ-৬' বিমান ঘাঁটিতে তাদের 'ওরেখনিক' হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। মিডলবেরি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জেফ্রি লুইস এবং সিএনএ অ্যানালিটিক্যাল সেন্টারের ডেকার এভলেট এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। প্ল্যানেট ল্যাবসের ডেটা পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা প্রায় ৯০ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছেন যে মোগিলেভ অঞ্চলে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের মোবাইল লঞ্চারগুলি স্থাপন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, এই স্থাপনার কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ৪ থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে। ১৯ নভেম্বরের স্যাটেলাইট চিত্রে রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলির বৈশিষ্ট্যপূর্ণ চিহ্ন ধরা পড়েছে, যার মধ্যে একটি সুরক্ষিত রেলওয়ে ট্রানজিট পয়েন্টও অন্তর্ভুক্ত। এই ঘাঁটিটি ইউক্রেনীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার এবং লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

২০২৩ সালের ২২শে ডিসেম্বর বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো নিশ্চিত করেন যে তারা 'ওরেখনিক'-এর ১০টি পর্যন্ত কমপ্লেক্স গ্রহণ করেছেন। তিনি এটিকে পশ্চিমা বিশ্বের 'উস্কানিমূলক কার্যকলাপের' জবাব হিসেবে আখ্যা দেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০২৪ সালের ২১শে নভেম্বর 'ওরেখনিক' ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই ক্ষেপণাস্ত্রের ঘোষিত পাল্লা ৫,৫০০ কিলোমিটার এবং গতিবেগ প্রায় ১০ ম্যাক, যা এটিকে বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলির জন্য অজেয় করে তুলবে বলে দাবি করা হয়েছে।

যদিও মিনস্ক কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে যে তারা ৪,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ১০টি কমপ্লেক্স পেয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এটিকে ইউরোপীয় অঞ্চলে রাশিয়ার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্ষেপণাস্ত্র গ্রহণের পাশাপাশি বেলারুশ 'ওরেখনিক' সিস্টেমের মোবাইল লঞ্চারগুলির উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে, যা এই প্রকল্পে তাদের গভীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘটনার সমান্তরালে, ২০২৩ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া ও মিনস্কের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বাহিনী বেলারুশের সীমান্তবর্তী আবাসিক পাঁচতলা ভবনগুলির ছাদে বিশেষ সরঞ্জাম স্থাপন করছে। এই সরঞ্জামগুলি পশ্চিম ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে 'শাহেদ' ড্রোনগুলির নির্ভুল নির্দেশনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলেনস্কি এটিকে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বেলারুশের সার্বভৌমত্বের জন্য এটিকে 'ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ' বলে অভিহিত করেন।

২০২৩ সালের ২৭শে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাশিয়া বা বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বেসামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি, যা পরিস্থিতিটির সংবেদনশীলতা ফুটিয়ে তোলে। পূর্বের ঘটনাবলী স্মরণ করলে দেখা যায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া বেলারুশের ভূমি ব্যবহার করে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করেছিল এবং মিনস্ক এখনও মস্কোর প্রধান সামরিক মিত্র।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে 'জাপাদ-২০২৫' যৌথ মহড়ার সময় এই অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভিক্টর খ্রেণিন পূর্বে বলেছিলেন যে 'ওরেখনিক'-এর মোতায়েন 'ইউরোপের ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না', যদিও তারা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলি, বিশেষত পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়া, তাদের সীমান্তের ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন হওয়ায় সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বক্তব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দিকেও ইঙ্গিত করে। তিনি '২০-দফা' শান্তি পরিকল্পনার আগে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ২০২৩ সালের শেষের দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে একটি সম্ভাব্য বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি দ্বিমুখী উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে: একদিকে হাইপারসনিক অস্ত্রের কৌশলগত মোতায়েন, অন্যদিকে মিত্র দেশের বেসামরিক কাঠামো ব্যবহার করে কৌশলগত ড্রোন পরিচালনার প্রচেষ্টা। 'ওরেখনিক' যদি পারমাণবিক রূপে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি হিরোশিমায় ফেলা বোমার প্রায় ৪৫টি চার্জের সমান, অর্থাৎ মোট ৯০০ কিলোটন পর্যন্ত ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ এই পদক্ষেপের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

25 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • Al Jazeera Online

  • Deutsche Welle

  • Reuters

  • Carnegie Endowment for International Peace

  • Reuters

  • BBC News

  • Al Jazeera

  • POLITICO

  • ABS-CBN News

  • South China Morning Post (SCMP)

  • The Guardian

  • Reuters

  • Mint

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।