পদমর্যাদার অপব্যবহারের অভিযোগে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর গ্রেপ্তার: ব্রিটিশ রাজপরিবারে নজিরবিহীন সংকট

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে পদমর্যাদার অপব্যবহারের সন্দেহে টেমস ভ্যালি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটেছে সাবেক ডিউক অফ ইয়র্কের ৬৬তম জন্মদিনে। আধুনিক যুগে রাজপরিবারের কোনো সিনিয়র সদস্যের এভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম, যা পুরো বিশ্বে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

প্রয়াত অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইনের সাথে সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র প্রকাশের পর শুরু হওয়া একটি গভীর তদন্তের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বার্কশায়ার এবং নরফোকের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর সেই সময় নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের উড ফার্মে বসবাস করছিলেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মূলত ২০১০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যবর্তী সময়ের কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে, যখন তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাজ্যের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি জেফরি এপস্টাইনকে অত্যন্ত গোপনীয় সরকারি বাণিজ্যিক তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এর মধ্যে ২০১০ সালের অক্টোবরের আসন্ন সফর এবং সেই বছরের নভেম্বরে প্রস্তুতকৃত অফিসিয়াল সফরের বিস্তারিত প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রাজা তৃতীয় চার্লস একটি প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়েছেন, যেখানে তিনি তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং রাজতন্ত্র এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ ও আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করবে। তবে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তিনি আর কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। রাজার এই কঠোর অবস্থানকে প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্সেস ক্যাথরিনসহ রাজপরিবারের অন্যান্য প্রভাবশালী সদস্যরাও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন, যা রাজতন্ত্রের স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।

সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় অষ্টম স্থানে থাকা অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের জন্য এই আইনি জটিলতা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকটের ফল। ২০২৫ সালের শেষের দিকে ভার্জিনিয়া জুফ্রে-র স্মৃতিকথা প্রকাশের পর চাপের মুখে পড়ে রাজা তৃতীয় চার্লস ২০২৫ সালের শরৎকালে তার ভাইয়ের সমস্ত রাজকীয় উপাধি এবং ডিউক অফ ইয়র্ক খেতাব কেড়ে নেন। এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তার সামরিক পদমর্যাদা এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রত্যাহার করেছিলেন। উপাধি হারানোর পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে তিনি উইন্ডসরের রয়্যাল লজ ছেড়ে স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের উড ফার্মে চলে যান। উল্লেখ্য যে, অ্যান্ড্রু ২০১৯ সালের নভেম্বরে বিবিসি নিউজনাইট সাক্ষাৎকারের পর জনসমক্ষে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভার্জিনিয়া জুফ্রে-র সাথে একটি দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি করেছিলেন।

পদমর্যাদার অপব্যবহারের এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, যার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই মামলাটি মূলত তার আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় জনগণের আস্থার সম্ভাব্য লঙ্ঘনের ওপর আলোকপাত করছে। এই ঘটনাটি ব্রিটিশ আইন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগতভাবে রাজা তৃতীয় চার্লসের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তাকে প্রমাণ করতে হবে যে আইনের শাসন রাজপরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। যদিও অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত সমস্ত যৌন অসদাচরণের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন, তবে এই নতুন আইনি লড়াই তার এবং ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য এক অনিশ্চিত অধ্যায় তৈরি করেছে।

ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে এই ঘটনাটি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যেখানে অনেকেই রাজপরিবারের জবাবদিহিতার দাবি তুলছেন। টেমস ভ্যালি পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে অপরাধের তদন্তে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার অগ্রগতি এবং আদালতের রায় নির্ধারণ করবে যে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তি কীভাবে পুনর্গঠিত হবে। অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের আইনি দল এখন এই গুরুতর অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • Deutsche Welle

  • Reuters

  • Time Magazine

  • Los Angeles Times

  • Britannica

  • The Guardian

  • CBS News

  • The Irish Times

  • The Guardian

  • Wikipedia

  • Wikipedia

  • CBS News

  • CBS News

  • The Guardian

  • The Times of India

  • News Shopper

  • Time Magazine

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।