২০২৫ সালে নতুন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রসারের মাঝে চীনের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বায়ুবিদ্যুৎকে ছাড়িয়ে গেছে

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

২০২৫ সাল চীনের জ্বালানি খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, কারণ এই প্রথমবারের মতো সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বায়ুবিদ্যুৎকে ছাড়িয়ে গেছে। এই অভাবনীয় পরিবর্তনের মূলে রয়েছে ফটোভোলটাইক (PV) সিস্টেমের ব্যাপক সম্প্রসারণ, যা গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে প্যানেলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার কারণে সম্ভব হয়েছে। চীনের ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NEA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১,৮৪০ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৪৭ শতাংশেরও বেশি এবং এই প্রথমবারের মতো এই সক্ষমতা তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকে অতিক্রম করেছে।

২০২৫ সালের প্রথম এগারো মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বার্ষিক ভিত্তিতে প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বায়ুবিদ্যুৎ বেড়েছে ৩৭.৪ শতাংশ। এই দ্রুত প্রসারের ফলে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পুরোটা নবায়নযোগ্য উৎস থেকেই মেটানো সম্ভব হয়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়াতে হয়নি। যদিও সেই বছর দেশে মোট জ্বালানি ব্যবহারের হার ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অংশ প্রায় ৫৮ শতাংশে স্থির ছিল, তবুও পুরো ২০২৫ সালে তাপবিদ্যুৎ (কয়লা ও গ্যাস) উৎপাদন বার্ষিক ০.৭ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত ছিল।

নবায়নযোগ্য শক্তির এই জয়জয়কারের মধ্যেও ২০২৫ সালে চীনের জ্বালানি কৌশলে একটি দ্বিমুখী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। অতীতে গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি প্রায় ৭০ গিগাওয়াট নতুন 'ক্লিন কোল' বা উন্নত প্রযুক্তির কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করেছে। ২০০৭ সালের পর এটিই এক বছরে সর্বোচ্চ কয়লা বিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির রেকর্ড। সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের অস্থির প্রকৃতির মধ্যে গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই নতুন কয়লা ইউনিটগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১,২০০ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে (গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি), আর বায়ুবিদ্যুতের সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৬৪০ গিগাওয়াটে (২৩ শতাংশ বৃদ্ধি)।

২০২৫ সালের প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চীন একাই বিশ্বের বাকি সব দেশের সম্মিলিত সৌর সক্ষমতার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করেছে। তবে এই দ্রুত প্রবৃদ্ধি কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। বিশ্লেষকরা 'কার্টেলমেন্ট' বা উৎপাদিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিডের সীমাবদ্ধতা ও স্টোরেজ সিস্টেমের অভাবে ব্যবহার করতে না পারার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা এবং কম দামের কারণে ফটোভোলটাইক সরঞ্জাম নির্মাতারা আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য এনইএ (NEA) এবং বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা গ্রিড অবকাঠামোতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার অবদান ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং মোট জ্বালানি ব্যবহারে জীবাশ্ম জ্বালানির হার ছিল প্রায় ৫৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান এবং ৭০ গিগাওয়াট নতুন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোজন প্রমাণ করে যে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীন এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তবে ২০২৬ সালের পূর্বাভাসে ১২০ গিগাওয়াট নতুন বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নবায়নযোগ্য খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (NDRC) ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত নির্দেশনায় ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও আধুনিক জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

16 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Bloomberg Business

  • Carbon Brief

  • Yicai Global

  • Forbes

  • Low-Carbon Power Data

  • Centre for Research on Energy and Clean Air

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।