যুক্তরাজ্যের রেলপথে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: নেটওয়ার্ক রেলের কোয়ান্টাম নেভিগেশন সিস্টেমের সফল পরীক্ষা

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

২০২৬ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের রেল অবকাঠামোর জন্য দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠান 'নেটওয়ার্ক রেল' প্রথমবারের মতো একটি সক্রিয় মেইনলাইনে 'রেল কোয়ান্টাম ইনার্শিয়াল নেভিগেশন' (RQINS) সিস্টেমের পরীক্ষা চালিয়েছে। এটি ছিল বিশ্বের বুকে এই ধরনের প্রযুক্তির প্রথম সফল পরীক্ষা যা লন্ডন এবং ওয়েলউইন গার্ডেন সিটির মধ্যে 'গোভিয়া টেমসলিঙ্ক রেলওয়ে' রুটে পরিচালিত হয়। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি রেলওয়ে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরকিউআইএনএস (RQINS) সিস্টেম মূলত ট্রেনের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের জন্য অতি-সংবেদনশীল সেন্সর ব্যবহার করে যা ট্রেনের গতি এবং ঘূর্ণনের সামান্যতম পরিবর্তনও ধরতে সক্ষম। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি জিপিএস (GPS) বা অন্য কোনো বাহ্যিক সংকেতের ওপর নির্ভর না করেই কাজ করতে পারে। ফলে টানেল বা সুউচ্চ দালানকোঠা বেষ্টিত শহুরে এলাকায় যেখানে স্যাটেলাইট সিগন্যাল পৌঁছাতে পারে না, সেখানেও এটি অত্যন্ত নির্ভুল তথ্য প্রদান করে। এটি প্রচলিত ট্র্যাক-সাইড সিস্টেমের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং টেকসই বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই উদ্ভাবনী প্রকল্পটি 'গ্রেট ব্রিটিশ রেলওয়েজ'-এর কৌশলগত উদ্ভাবন শাখা 'জিবিআরএক্স' (GBRX) দ্বারা সমন্বিত হচ্ছে। এটি মূলত যুক্তরাজ্যের প্রায় ২০,০০০ মাইল দীর্ঘ রেল নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিরক্ষা খাতের উন্নত প্রযুক্তি এবং 'ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন'-এর পূর্ববর্তী গবেষণার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই ব্যবস্থাকে ল্যাবরেটরি থেকে সরাসরি মেইনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। এই পরীক্ষা চলাকালীন বাস্তব পরিস্থিতিতে সিস্টেমটির কর্মক্ষমতা সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে যা ভবিষ্যতে এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথ সুগম করবে।

এই প্রযুক্তির বিকাশে 'মনিরাইল' (MoniRail)-এর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কনসোর্টিয়াম কাজ করছে যার সাথে অংশীদার হিসেবে রয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, কাইনেটিক (QinetiQ) এবং সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়াও পিএ কনসাল্টিং এবং ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি এই প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। ইনোভেট ইউকে এবং ব্রিটিশ সরকারের বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি সমর্থন এই প্রকল্পের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। ইতিপূর্বে মনিরাইল কোম্পানিটি 'এসবিআরআই: কোয়ান্টাম ক্যাটালিস্ট ফান্ড' (ফেজ ২) থেকে অনুদান পেয়েছিল যা টানেলের ভেতরে স্যাটেলাইট সিগন্যাল হারানোর সমস্যা সমাধানে সহায়ক হয়েছে।

২০২৬ সালের এই অগ্রগতি নেটওয়ার্ক রেলের 'ডিজিটাল রেলওয়ে' কৌশলের সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। বর্তমানে ব্যবহৃত সিগন্যালিং ব্যবস্থাগুলোর অর্ধেকেরও বেশি আগামী ১৫ বছরের মধ্যে পুরনো হয়ে যাবে, তাই এই আধুনিকায়ন অপরিহার্য। যদিও বর্তমানে পাণ্ডাস (PANDAS) বা এআইভিআর (AIVR)-এর মতো ডিজিটাল সিস্টেমগুলো রেললাইনের অবস্থা পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে আরকিউআইএনএস সিস্টেমটি মূলত রেলওয়ের অবস্থান নির্ণয় পদ্ধতির পুরো স্থাপত্যকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

এই প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন রেলপথে ব্যয়বহুল গ্রাউন্ড ইকুইপমেন্টের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেবে এবং ট্রেন পরিচালনার নির্ভরযোগ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি করবে। যদিও দীর্ঘ পথ চলার ক্ষেত্রে ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেমে কিছুটা ত্রুটি জমার সম্ভাবনা থাকে, তবে এই প্রকল্পে সেটিকে অন্যান্য সিস্টেমের সাথে একীভূত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে একটি অত্যন্ত নির্ভুল এবং স্থিতিশীল রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে যা আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Clarin

  • RailAdvent

  • RailBusinessDaily

  • Signalbox

  • RailBusinessDaily

  • Megaproject

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।