ছয় সপ্তাহের সংঘাত নিরসনে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের ঐতিহাসিক বৈঠক

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

১১ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের শর্তাধীন যুদ্ধবিরতির মাঝে এই বৈঠকটি আয়োজিত হলেও, উভয় পক্ষের মধ্যকার গভীর পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং মৌলিক দাবিদাওয়ার অমিল এই শান্তি প্রক্রিয়াকে বেশ চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ইরান কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করার কারণে। মার্কিন ও ইরানি উভয় প্রতিনিধিদলই ইসলামাবাদে পৌঁছানোর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে পৃথক বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী শরিফ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, এই আলোচনা ওই অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ৫০তম ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যার সাথে যোগ দিয়েছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সাথে উপস্থিত ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান আলি বাঘেরি কানি। পাকিস্তান সরকার এই সংকট নিরসনে অত্যন্ত সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী শরিফের পাশাপাশি উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইশাক দার এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ জোর দিয়ে বলেছেন যে, আলোচনার ক্ষেত্রে গঠনমূলক মানসিকতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও জানান যে, এই শান্তি প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আলোচনার মূল পর্যায়টি ইসলামাবাদের সুরক্ষিত সরকারি কোয়ার্টারে অবস্থিত বিখ্যাত সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি একে অপরের সাথে মতবিনিময় করেন।

আলোচনার টেবিলে থাকা প্রস্তাবগুলো বর্তমানে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ইরান ১০ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং বিদেশে তাদের জব্দ করা অর্থ বা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাব পেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হলো হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি প্রদান করা। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার খবরের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনও তুঙ্গে রয়েছে।

স্পিকার গালিবাফ অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি তার তীব্র অনাস্থা ব্যক্ত করেছেন। তা সত্ত্বেও মধ্যস্থতাকারীদের লক্ষ্য হলো এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে। ইরানের প্রতিনিধিদলে ৭০ জনেরও বেশি সদস্যের অংশগ্রহণ এই আলোচনার গুরুত্ব ও তাদের প্রস্তুতির গভীরতাকে প্রমাণ করে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই আলোচনার ফলাফল এখন বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Al Jazeera Online

  • Deutsche Welle

  • Deutsche Welle

  • 9news

  • Al Jazeera Online

  • Daily Mail Online

  • Vertex AI Search Result 2

  • Vertex AI Search Result 5

  • Vertex AI Search Result 4

  • Vertex AI Search Result 6

  • Vertex AI Search Result 15

  • میدل ایست نیوز

  • اطلاعات روز

  • جی‌دی ونس - ویکی‌پدیا، دانشنامهٔ آزاد

  • ویکی‌پدیا، دانشنامهٔ آزاد

  • میدل ایست نیوز

  • The Washington Post

  • Al Jazeera

  • Reuters

  • The Japan Times

  • Encyclopaedia Britannica

  • The National

  • Wikipedia

  • Al Jazeera

  • AP News

  • Wikipedia

  • The Washington Post

  • Al Jazeera

  • Anadolu Ajansı

  • Reuters

  • Wikipedia

  • Al Jazeera

  • The Washington Post

  • Channels TV

  • Wikipedia

  • Ministry of Foreign Affairs, Government of Pakistan

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।