ইরান হরমুজ খুলে দিতে চায়: অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক অভাবনীয় শান্তি প্রস্তাব

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

যখন বিশ্ব প্রায় মেনেই নিয়েছিল যে ইরান-মার্কিন সংঘাত এক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে, তখন তেহরান থেকে আসা একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব আলোচনার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত—যা বিশ্বের মোট খনিজ তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের পথ—যদি তার বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা হয়। কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের মতো দূতদের মাধ্যমে এই বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এপি-সহ অন্যান্য পশ্চিমা ও রুশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করা, যা অবরোধ এবং সংঘাতের তীব্রতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে রয়েছে। পাকিস্তানসহ বেশ কিছু আরব ও তুর্কি মধ্যস্থতাকারী দীর্ঘকাল ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করছে, তবে এখন তাদের সেই প্রচেষ্টা একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে: কয়েক দফা কূটনৈতিক ব্যর্থতার পর তেহরান একটি তিন-ধাপের পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে, যেখানে প্রথমে যুদ্ধবিরতি, এরপর হরমুজের মাধ্যমে সরবরাহ শুরু এবং সবশেষে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী অনেক আগেই কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান হওয়ার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। এটি এমন একটি হাতিয়ার যা ইরান কয়েক দশক ধরে ব্যবহার করে আসছে, কখনও তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে, আবার কখনও আংশিকভাবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে। এখন তেহরান এই প্রণালী বা এর একাংশ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, তবে এর বদলে তারা নিরাপত্তার বাস্তব নিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। এখানে ঝুঁকির মাত্রা অত্যন্ত বেশি: এই রুটে তেল সরবরাহে যেকোনো বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে ইউরোপ, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও পেট্রোলের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।

কয়েক সপ্তাহের চরম অনিশ্চয়তার পর বিশ্ব অর্থনীতির কাছে এই প্রস্তাবটি যেন অনেকটা স্বস্তির নিশ্বাস হয়ে এসেছে। তবে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের আড়ালে একটি গভীর ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে: তেহরান কঠোর শর্তের ভিত্তিতে আলোচনার সদিচ্ছা দেখাচ্ছে, আর ওয়াশিংটন যদি পারস্পরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, তবে জনসমক্ষে পরাজয় স্বীকার না করেই এই উত্তেজনা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞদের এক বড় অংশ মনে করছেন যে হরমুজের এই সংকীর্ণ জলরাশিই নির্ধারণ করবে যে এটি কি আরেকটি বড় সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হবে নাকি অভাবনীয়ভাবে উত্তেজনা প্রশমনের একটি পথ তৈরি করবে।

এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া সংযত হলেও একটি বিষয় পরিষ্কার: যে কূটনীতিকে অনেকে অচল বলে ধরে নিয়েছিলেন, তা হঠাৎ প্রাণ ফিরে পেয়েছে এমন এক জায়গায় যেখানে কেউ তা আশা করেনি—পারস্য ও ওমান উপসাগরের মাঝখানের ওই সংকীর্ণ তেলের করিডোরে।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Iran offers to reopen Strait of Hormuz if US lifts its blockade

  • Pakistan still seeks to bridge US, Iran gaps despite failure of face-to-face talks

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।