আর্টেমিস ২ মিশন: ৫০ বছর পর চাঁদের চারপাশে প্রথম মানববাহী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওরিয়ন মহাকাশযান

লেখক: Svetlana Velhush

আর্টেমিস ২ মিশন: ৫০ বছর পর চাঁদের চারপাশে প্রথম মানববাহী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওরিয়ন মহাকাশযান-1

চাঁদের বুকে মানুষের পুনরায় পদার্পণের স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। ফ্লোরিডার ৩৯বি লঞ্চ প্যাডে ইতিমধ্যেই এসএলএস (SLS) রকেটটি তার অবস্থান নিশ্চিত করেছে। চারজন দক্ষ মহাকাশচারীর সমন্বয়ে গঠিত এই দল তাদের চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ অতিক্রম করে মহাকাশের গভীরে পাড়ি জমাতে যাচ্ছে। ১০ দিনব্যাপী এই ঐতিহাসিক মিশনটি মূলত চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের আগে একটি চূড়ান্ত মহড়া হিসেবে কাজ করবে।

আর্টেমিস ২ মিশন: ৫০ বছর পর চাঁদের চারপাশে প্রথম মানববাহী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওরিয়ন মহাকাশযান-1

১৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আর্টেমিস ২ মিশনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নাসা (NASA) গত ফেব্রুয়ারি মাসে উদ্ভূত বেশ কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা সফলভাবে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে সকল সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুত এবং গত ৫৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে মানববাহী ফ্লাইটের জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এই মিশনটি মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

আর্টেমিস ২ মিশন: ৫০ বছর পর চাঁদের চারপাশে প্রথম মানববাহী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওরিয়ন মহাকাশযান-2

বর্তমানে বিশালকার এসএলএস রকেট এবং ওরিয়ন মহাকাশযানটি ভার্টিক্যাল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং বা ভিএবি-তে (VAB) রাখা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়াররা সম্প্রতি ফ্লাইট অ্যাবর্ট সিস্টেমের ইলেকট্রিক্যাল হারনেস বা বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ পরিবর্তনের কাজ সফলভাবে শেষ করেছেন। এটি মহাকাশচারীদের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ ছিল। প্রতিটি যন্ত্রাংশ এখন নিখুঁতভাবে কাজ করছে বলে নাসা নিশ্চিত করেছে।

আর্টেমিস ২ মিশন: ৫০ বছর পর চাঁদের চারপাশে প্রথম মানববাহী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওরিয়ন মহাকাশযান-3

রকেটটিকে উৎক্ষেপণ মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বা 'রোলআউট' নিয়ে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নাসা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীকাল ১৯ মার্চ অথবা শুক্রবার ২০ মার্চের মধ্যে রকেটটিকে ৩৯বি লঞ্চ প্যাডে স্থানান্তরের কাজ শুরু হতে পারে। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতিতে এবং সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হয়, যা মিশনের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।

মিশনটির মূল উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ এপ্রিল, ২০২৬। ওইদিন ইডিটি (EDT) সময় সন্ধ্যা ১৮:২৪ মিনিটে (যা কিয়েভ সময় অনুযায়ী ২ এপ্রিল রাত ০১:২৪ মিনিট) উৎক্ষেপণের উইন্ডো বা সময়সীমা উন্মুক্ত হবে। যদি কোনো কারণে ১ এপ্রিল উৎক্ষেপণ সম্ভব না হয়, তবে ২ থেকে ৬ এপ্রিল এবং পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিকল্প তারিখগুলো সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

অভিযাত্রী দলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। আজ থেকেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাক-ফ্লাইট কোয়ারেন্টাইন বা বিশেষ পর্যবেক্ষণে প্রবেশ করছেন। আগামী ২৭ মার্চ তারা কেনেডি স্পেস সেন্টারে পৌঁছাবেন, যেখানে তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতির শেষ ধাপগুলো সম্পন্ন করা হবে। এই চারজন বীর অভিযাত্রী এখন পুরো বিশ্বের নজর কেড়েছেন।

১০ দিনের এই দীর্ঘ যাত্রায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হবে:

  • উৎক্ষেপণ এবং পৃথিবীর কক্ষপথে সফলভাবে প্রবেশ।
  • চাঁদের অভিমুখে যাত্রা শুরু করা (ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টোরি অনুসরণ করে, যা ইঞ্জিন বিকল হলেও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করে)।
  • চাঁদকে খুব কাছ থেকে প্রদক্ষিণ করা, তবে কোনো কক্ষপথে প্রবেশ না করে।
  • গভীর মহাকাশে ওরিয়ন যানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, রেডিয়েশন সুরক্ষা, যোগাযোগ এবং তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কঠোর পরীক্ষা।
  • সবশেষে প্রশান্ত মহাসাগরে সফলভাবে অবতরণ বা স্প্ল্যাশডাউন।

নাসা সম্প্রতি তাদের 'ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ' সম্পন্ন করেছে, যেখানে সকল দল এই অভিযানের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে। তবে ফ্লাইট অ্যাবর্ট সিস্টেমের অবশিষ্ট কিছু পরীক্ষা শেষ হওয়া সাপেক্ষে এই অনুমতি কার্যকর হবে। এছাড়া বর্তমানে সূর্যের অতি সক্রিয়তার বিষয়টিও নাসা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের বাইরে মহাকাশচারীদের বিকিরণ ঝুঁকি কমাতে সৌর শিখা বা সোলার ফ্লেয়ারের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

আর্টেমিস ২ মিশনটি মূলত ২০২৮ সালে পরিকল্পিত আর্টেমিস ৩ মিশনের একটি সোপান হিসেবে কাজ করবে। আর্টেমিস ৩ মিশনের মাধ্যমেই দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় চাঁদের মাটিতে মানুষের পা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই এই বর্তমান মিশনটির প্রতিটি মুহূর্ত এবং প্রতিটি তথ্য ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

37 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • NASA Blogs (Обновление по выкату ракеты от 17 марта 2026)

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।