সূর্যের ছন্দ অ্যান্টার্কটিকার উপকূলীয় বরফের স্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রিত করে, এবং 3700-বছরের অবসাদি শিলার রেকর্ড উপকূল বরফের ভাঙনের চক্রকে সূর্য পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করে।
২০২৬ সালে বৈজ্ঞানিক মহলে দুটি প্রধান বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে: সূর্যের ডিফারেনশিয়াল ঘূর্ণন ও চৌম্বকীয় কার্যকলাপের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ এবং অ্যান্টার্কটিকার উপকূলীয় বরফের সাথে সৌর স্পন্দনের যোগসূত্র স্থাপনকারী একটি প্যালিওক্লাইমেটিক গবেষণা। বর্তমানে সূর্য তার ২৫তম সৌর চক্রের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা ২০২৪ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর মধ্যে ঘটার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে, ২০২৬ সালের ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি সৌর কলঙ্ক অঞ্চল AR4366 থেকে শক্তিশালী শিখা নির্গত হয়। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারির X8.3 শ্রেণীর শিখাটি ছিল ২০২৬ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনা, যা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের উপর R3 শ্রেণীর রেডিও বিভ্রাট সৃষ্টি করেছিল।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে 'নেচার কমিউনিকেশনস' (Nature Communications) সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় অ্যান্টার্কটিকার উপকূলীয় বরফের ৩৭০০ বছরের একটি পুনর্গঠন তুলে ধরা হয়। রস সাগরের এডিস্টো ইনলেট (Edisto Inlet) থেকে সংগৃহীত তলানি বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে। এই গবেষণায় বরফ চক্র এবং সৌর কার্যকলাপের প্রাকৃতিক পরিবর্তনের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। এখানে গ্লেইসবার্গ চক্র (প্রায় ৯০ বছর) এবং সুয়েস-ডি ভ্রিস চক্রের (প্রায় ২৪০ বছর) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পুনরাবৃত্তিমূলক বরফ চক্র শনাক্ত করা হয়েছে।
এই গবেষণার সাথে যুক্ত প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
- বন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর মাইকেল ওয়েবার
- নাসা গোডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের ডক্টর নিকোলিন ভিয়াল
- স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জে. টড হোয়েকসেমা
- ইতালীয় ইনস্টিটিউট অফ পোলার সায়েন্সেস (CNR)
ডক্টর ওয়েবার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, বরফ চক্র এবং সৌর চক্রের মধ্যকার এই সম্পর্ক অ্যান্টার্কটিকার ওপর সৌর প্রভাব সম্পর্কে মৌলিক নতুন ধারণা প্রদান করে। এই বহু-দশক এবং শতাব্দীব্যাপী সৌর চক্রগুলো সূর্যের চৌম্বকীয় নির্গমন এবং উজ্জ্বলতার পরিবর্তনের কারণে ঘটে থাকে, যা দূরবর্তী সৌর প্রক্রিয়ার সাথে অ্যান্টার্কটিকার উপকূলীয় বরফের স্থিতিশীলতার যোগসূত্র প্রমাণ করে। সিমুলেশন অনুযায়ী, সৌর বিকিরণ বৃদ্ধি পেলে সমুদ্রের উপরিভাগ উত্তপ্ত হয় এবং সামুদ্রিক বরফের অন্তরক প্রভাব হ্রাস পায়। এর ফলে উপকূলীয় বরফ বাতাস এবং ঢেউয়ের প্রতি আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, যা সূর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই পরিবর্তনগুলোকে ব্যাখ্যা করে।
২০২৬ সালের সৌর কার্যকলাপ মহাকাশ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মূলত স্যাটেলাইট এবং বিদ্যুৎ গ্রিড সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য। সূর্যের প্লাজমা প্রকৃতির কারণে এর ডিফারেনশিয়াল ঘূর্ণন লক্ষ্য করা যায়, যেখানে বিষুবরেখা সবচেয়ে দ্রুত ঘোরে (প্রায় ২৪.৪৭ পার্থিব দিন বা সিডেরিয়াল পিরিয়ড), আর ৭৫ ডিগ্রি অক্ষাংশে এই সময়কাল ৩৩.৪০ দিনে পৌঁছায়। ডক্টর ভিয়াল স্পষ্ট করেছেন যে, রিচার্ড ক্যারিংটনের ২৭.৩ দিনের পরিমাপটি ছিল একটি সিনোডিক পিরিয়ড, যা প্রকৃত সিডেরিয়াল পিরিয়ড (সৌর কলঙ্ক অক্ষাংশে প্রায় ২৫.৪ দিন) থেকে আলাদা।
অ্যান্টার্কটিক বরফের এই গবেষণাটি মাত্র কয়েক দশকের স্যাটেলাইট রেকর্ডের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উপকূলীয় বরফ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ খুলে দিয়েছে। এটি বিজ্ঞানীদের প্রাকৃতিক পরিবর্তনশীলতাকে মানবসৃষ্ট বা অ্যানথ্রোপোজেনিক প্রভাব থেকে আলাদা করতে সহায়তা করবে। দীর্ঘমেয়াদী এই প্যালিওক্লাইমেটিক তথ্যগুলো ভবিষ্যতের জলবায়ু মডেল তৈরিতে এবং পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বুঝতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।