X4.2 শ্রেণির সৌর ফ্লেয়ার N15°E5°-এ (NOAA 4366) 2026-02-04 12:02 / 12:13 \ 12:18 UT
সক্রিয় অঞ্চল ৪৩৬৬ থেকে শক্তিশালী X4.2 সৌর শিখা নির্গত: বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
লেখক: Uliana S.
সূর্যের সক্রিয় অঞ্চল ৪৩৬৬, যা গত কয়েক দিন ধরে বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল, অবশেষে তার বিধ্বংসী ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১২:১৩ ইউটিসি (UTC) সময়ে এই অঞ্চল থেকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভূ-কার্যকর সৌর শিখা নির্গত হয়েছে। X4.21 (বা সংক্ষেপে X4.2) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ এই শিখাটি ২০২৫-২০২৬ সালের মধ্যে তৃতীয় শক্তিশালী সৌর ঘটনা হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে। এটি সরাসরি পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকা অবস্থায় ঘটা প্রথম চরম মাত্রার শিখা, যার প্রভাবে ইতিমধ্যেই আফ্রিকা ও ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বল্প-তরঙ্গ রেডিও যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে।
CME ধরা পড়েছে, তবে এর কম গতিবেগ (~450 কিমি/সেকেন্ড) এর কারণে X8.1 ফ্লেয়ারের CME-টি লুকিয়ে থাকতে পারে বলে বেশি সম্ভাবনা।
এই সৌর শিখাটি উৎপন্ন হওয়ার প্রাথমিক মুহূর্তে কোনো বিশাল করোনাল মাস ইজেকশন বা সিএমই (CME) শনাক্ত করা না গেলেও, পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণে একটি প্লাজমা মেঘের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে একটি প্লাজমা মেঘ পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছে, তবে এর গতিবেগ তুলনামূলকভাবে কম, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি সাম্প্রতিক X4.2 শিখার সরাসরি ফল নয়, বরং ২ ফেব্রুয়ারি ঘটা শক্তিশালী X8.1 শিখার একটি তথাকথিত 'স্টিলথ সিএমই'। এই ধীরগতির মেঘটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানলে দীর্ঘস্থায়ী ভূ-চৌম্বকীয় প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।
04.12.13 UTC-এ অঞ্চল 4366-এ একটি ইমপালসিভ X4.2 ফ্লেয়ার ঘটেছে। বর্তমানে ছবিতে করোনাল মাস ইজেকশনের কোনো সংকেত দেখা যায়নি। আপডেটগুলোর জন্য নজর রাখুন।
বর্তমান পরিমাপ অনুযায়ী, আন্তঃগ্রহ চৌম্বক ক্ষেত্রের মোট শক্তি (Bt) ২০ এনটি (nT) পর্যন্ত পৌঁছেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর উল্লম্ব উপাদান বা Bz বর্তমানে নেতিবাচক মেরুত্ব প্রদর্শন করছে। এই ধরনের চৌম্বকীয় বিন্যাস পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে সৌর শক্তি প্রবেশের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। যদি এই পরিস্থিতি বজায় থাকে, তবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীতে G2 (মাঝারি) থেকে G3 (তীব্র) মাত্রার ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় আঘাত হানার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চলে উজ্জ্বল মেরুজ্যোতি বা অরোরা দেখা যেতে পারে।
সক্রিয় অঞ্চল ৪৩৬৬-এর বিশালতা বর্তমানে পৃথিবীর ব্যাসের ১৫ গুণেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে, যা সৌর সক্রিয়তার এক নজিরবিহীন উদাহরণ। শুধুমাত্র ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখেই সূর্য থেকে মোট ২০টি শিখা নির্গত হয়েছে, যার মধ্যে ১টি X-ক্লাস, ১২টি M-ক্লাস এবং ৭টি C-ক্লাস শিখা ছিল। সূর্য বর্তমানে পৃথিবীর ওপর একক কোনো আঘাত নয়, বরং একটি সম্মিলিত প্রভাব বিস্তার করছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, ৪৩৬৬ অঞ্চলটি এখনও ভূ-কার্যকর অবস্থানে থাকায় আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী সৌর ঘটনা ঘটার ঝুঁকি রয়েই গেছে, যা আমাদের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।