ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আর্কটিক অস্থিরতা মধ্য ইউরোপ ও বলকানে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের ইঙ্গিত দিচ্ছে

সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Martynovska 17

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য মধ্য ইউরোপ এবং বলকান অঞ্চলে চরম শৈত্যপ্রবাহের একটি উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা আবহাওয়াবিদ্যা মডেলগুলি নির্দেশ করছে। এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি মেরু ঘূর্ণির (polar vortex) মধ্যে প্রত্যাশিত অস্থিরতা এবং রাশিয়ার উপর একটি শক্তিশালী প্রতিচক্রীয় ব্যবস্থার (anticyclone) কারণে সৃষ্টি হতে পারে, যা তীব্র আর্কটিক বায়ুর অনুপ্রবেশের পথ তৈরি করতে পারে। এই ধরনের ঘটনা, যা 'সাইবেরিয়ান হুইপ' নামে পরিচিত, দিনের তাপমাত্রা -১০° সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনতে পারে এবং কিছু এলাকায় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -২০° সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা ২০১২ সালের পরিস্থিতির অনুরূপ।

এই সম্ভাব্য শৈত্যপ্রবাহের মূল চালিকাশক্তি হলো আর্কটিক অঞ্চলে একটি আকস্মিক স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক উষ্ণতা (Sudden Stratospheric Warming - SSW) ঘটনা, যা মেরু ঘূর্ণির কাঠামোকে বিঘ্নিত করছে। যখন মেরু ঘূর্ণি শক্তিশালী থাকে, তখন এটি মেরু অঞ্চলের শীতল বাতাসকে আটকে রাখে, কিন্তু এর দুর্বলতা বা বিভাজন ঘটলে শীতল বাতাস মধ্য অক্ষাংশে ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরনের মেরু ঘূর্ণির ভাঙন বা বিভাজন প্রায়শই জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে ঘটে এবং এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হতে পারে। প্রফেসর আলেকজান্ডার ভালজারেভিচ বলকান অঞ্চলের পর্বত এলাকায় তাপমাত্রা -২০° সেলসিয়াসে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছেন, যেখানে শহরাঞ্চলে সকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -১০° থেকে -১২° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বলকান উপত্যকাগুলিতে তাপমাত্রা বিপরীতমুখীতার (temperature inversions) কারণে বায়ুর গুণমান হ্রাস পেয়েছে, যা উচ্চচাপ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত। এই ধরনের তাপমাত্রা বিপরীতমুখীতা দূষণকারী কণাগুলিকে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেয়, যা ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, উজবেকিস্তানের তাসখন্দে ৮ জানুয়ারি, ২০২৬-এ PM2.5 কণার গড় ঘনত্ব অনুমোদিত সীমার (৬০ µg/m³) চেয়ে ৭০% বেশি ছিল। বলকান অঞ্চলে, বিশেষ করে সার্বিয়ার বেলগ্রেডে, পুরনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ডিজেল যানবাহনের ব্যবহারের কারণে শীতকালে বিপজ্জনক মাত্রার বায়ুদূষণ একটি পরিচিত সমস্যা।

এই সম্ভাব্য তীব্র ঠান্ডার পরিস্থিতিতে শক্তি খাত এবং অবকাঠামো একটি বড় ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, যা বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য পরিষেবা বিঘ্নের জন্য বর্ধিত প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। ২০১২ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির চরম শৈত্যপ্রবাহের সময় ইউরোপে ৮২৪ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ড্যানিয়ুব নদী জমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। সেই সময়ে, সার্বিয়া এবং বসনিয়ার বরফে ঢাকা গ্রামগুলি থেকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধারকার্য চালানো হয়েছিল এবং তাপমাত্রা -৩২.৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে এসেছিল। এই ঐতিহাসিক নজিরগুলি ২০২৬ সালের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য অবকাঠামোগত স্থিতিস্থাপকতার (resilience) দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা বহন করে। ইউরোপীয় আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনগুলি প্রায়শই আর্কটিক অ্যামপ্লিফিকেশনের সাথে যুক্ত, যা বিদ্যুৎ গ্রিড এবং বিমানবন্দরগুলির উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

29 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Srpskainfo

  • Opinia Buzău

  • hirado.hu

  • Kvalitet zraka u gradovima Bosne i Hercegovine

  • Kvalitet zraka u BiH

  • Srednjoročna prognoza - Federalni hidrometeorološki zavod

  • Novi udar na džep građana: Skuplja struja u dijelu Bosne i Hercegovine od 1. februara 2026. godine - Politički Radar

  • Ziarul Unirea

  • Meteoromania.ro (via Agerpres)

  • GDS.ro

  • Știrile ProTV

  • Partener TV

  • Weather information for Dabasi, HU

  • HungaroMet

  • Pénzcentrum

  • Dehir

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।