২০২৫ সালের ১৭ই নভেম্বর রাতে, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ, ইতালির উত্তরাঞ্চলে এক অসাধারণ বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনা ক্যামেরাবন্দী করেন ফটোগ্রাফার ভল্টার বিনোত্তো। এই বিরল দৃশ্যটি ELVE (Emission of Light and Very Low-Frequency Perturbations due to Electromagnetic Pulse Sources) নামে পরিচিত। এটি এমন এক আলোক নিঃসরণ যা সাধারণত চোখে পড়ে না।
⚡️🏔️ Le photographe Valter Binotto a capturé ce 17 novembre dernier un rare elfe, un immense halo rouge brillant au-dessus des Alpes italiennes. 🔹 Formé en moins d’une milliseconde et large de plus de 300 km, les elfes sont provoqués par des impulsions électromagnétiques se
ELVE হলো বিশাল আকৃতির একটি লাল রঙের বলয়, যা এক মুহূর্তের জন্য ঝলসে ওঠে। এই ঘটনাটি ট্রানজিয়েন্ট লাইট ইভেন্টস (TLE) শ্রেণির অন্তর্গত, যা পৃথিবীর আয়নমণ্ডলে ঘটে থাকে। ELVE শনাক্ত করার জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়, কারণ এগুলি মাত্র এক হাজার ভাগের এক সেকেন্ড স্থায়ী হয়—যা চোখের পলকের চেয়েও প্রায় শতগুণ দ্রুত। ফলস্বরূপ, খালি চোখে এই ঘটনা দেখা অসম্ভব। এই বিশেষ ঘটনাটি ইতালীয় আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত পোসাগনো পৌরসভা এলাকায় ঘটেছিল।
এই উজ্জ্বলতার উৎস ছিল একটি শক্তিশালী বজ্রপাত, যা পর্যবেক্ষক থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ভারনাৎজা এলাকায় আঘাত হানে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, এই বজ্রপাতের বৈদ্যুতিক প্রবাহ ছিল প্রায় -৩০৩ কিলোঅ্যাম্পিয়ার (kA)। এটি একটি সাধারণ বজ্রপাতের (১০-৩০ kA) চেয়ে ১০ থেকে ৩০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এই লাল বলয়টি আসলে সেই স্থানটিকে চিহ্নিত করে যেখানে বজ্রপাতের ফলে সৃষ্ট তড়িৎচুম্বকীয় স্পন্দন (EMP) পৃথিবীর আয়নমণ্ডলে আঘাত হানে এবং নাইট্রোজেন অণুকে উত্তেজিত করে ক্ষণস্থায়ী লাল আভা তৈরি করে।
শনাক্ত হওয়া এই বলয়টির ব্যাস ছিল প্রায় ২০০ কিলোমিটার এবং এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছিল। ভল্টার বিনোত্তো প্রতি সেকেন্ডে ২৫ ফ্রেমে ভিডিও ধারণ করার জন্য বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করেছিলেন, যার ফলেই এত দ্রুতগতির ঘটনাটি রেকর্ড করা সম্ভব হয়। পোসাগনোতে বিনোত্তোর এটি প্রথম ELVE রেকর্ড নয়; এর আগেও ২০২৩ সালের ২৩শে মার্চ আনকোনোর কাছে একটি বজ্রপাতের কারণে সৃষ্ট অনুরূপ ঘটনা তিনি ধারণ করেছিলেন।
ELVE নামক এই ঘটনাটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৯০-এর দশকে, যখন নাসার মহাকাশ শাটলের তোলা ছবিতে এটি ধরা পড়ে। বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেন যে, ELVE হলো দ্রুত প্রসারিত হওয়া চাকতির মতো ঝলকানি, যা শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় স্পন্দন দ্বারা উৎপন্ন হলেও ভূপৃষ্ঠে থাকা মানুষের জন্য কোনো বিপদ ডেকে আনে না। TLE পর্যবেক্ষণ করা বিজ্ঞানীদের জন্য পৃথিবীর আবহাওয়া এবং আয়নমণ্ডলের মধ্যেকার জটিল মিথস্ক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উত্তর ইতালির আকাশে এই ধরনের একটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং বায়ুমণ্ডলীয় গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিনোত্তোর মতো নিবেদিতপ্রাণ পর্যবেক্ষকদের প্রচেষ্টায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের রহস্যময় দিকগুলি ক্রমশ উন্মোচিত হচ্ছে। এই লাল বলয়টি প্রমাণ করে যে, আমাদের মাথার উপরে মহাজাগতিক এবং পার্থিব শক্তির এক অবিরাম খেলা চলছে, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালেই থেকে যায়।


